
জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উপজেলার তারতাপাড়া এলাকায় জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। প্রায় ১৯ মাসের কার্যক্রম শেষে কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে উপজেলার আরো দুটি এলাকায় গ্যাসের উপস্থিতি ও মজুদের সম্ভাবনা শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে নতুন দুটি অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, নতুন কূপ দুটি খনন করা হবে মাদারগঞ্জের ১ নম্বর চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্যচর ও গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ এলাকায়। কূপ দুটির প্রাথমিক কাজ হিসেবে সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে। প্রতিটি কূপের গভীরতা হবে প্রায় দুই হাজার ৫০০ মিটার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদারগঞ্জের তারতাপাড়া এলাকায় ১৯৮০ সালে সিসমিক জরিপের মাধ্যমে প্রথম গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে হাই-রেজুলেশন জরিপ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ক্লোজ গ্রিড সার্ভে পরিচালনা করা হয়। এসব জরিপের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতায় জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি কূপটির খননকাজ শুরু করে বাপেক্স।
প্রায় দুই হাজার ৬০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন শেষে কূপটিতে গ্যাসসমৃদ্ধ স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাথমিক মূল্যায়নে কূপটি থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপের ফিল্ড ইনচার্জ বায়োজিদ হোসেন জানান, কূপটির এক হাজার ৪৪১ থেকে এক হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতার মধ্যে গ্যাসসমৃদ্ধ স্তর শনাক্ত হয়েছে। এ কূপ থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে।
বাপেক্সের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, জামালপুর-১ কূপ থেকে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মাদারগঞ্জের সিংদহ ও নব্যচর এলাকায় আরো দুটি কূপ খননের প্রস্তুতি চলছে। জামালপুর-২ নামে সিংদহ এলাকায় ও জামালপুর নর্থ-১ নামে নব্যচর এলাকায় কূপ দুটি খনন করা হবে। প্রতিটি কূপের গভীরতা হবে প্রায় দুই হাজার ৫০০ মিটার।
তিনি আরো জানান, নতুন কূপ দুটির খননকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর গ্যাস পাওয়া গেলে তা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ২২ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করে সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








