
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক লংমার্চ দেশের রাজনীতি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) খুলনা মহানগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য খুলনার প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের উত্থাপিত ৭ দফা দাবি দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি রোধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবি—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ দাবিগুলোর কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষ তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় ঐক্যের এ লংমার্চ জনবিচ্ছিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে জনমতের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এ আন্দোলন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ এবং অসহিংস। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন জনগণের ঐক্য অনেক বেশি সুদৃঢ়। ৩১ অক্টোবরের এ লংমার্চে ঢাকা থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়ার প্রতিটি পয়েন্টে লাখ লাখ জনতা যুক্ত হবেন। এ লংমার্চের যাত্রাপথকে নিরাপদ ও জনদুর্ভোগমুক্ত রাখতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। কোনো ধরনের উস্কানি বা বিশৃঙ্খলার ফাঁদে পা না দিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আমাদের এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। পথে পথে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।’
সেক্রেটারি জেনারেল জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনামুখী লংমার্চ ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্যদিয়ে শুরু হবে। ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে সেখানে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে লংমার্চ খুলনার উদ্দেশে রওনা হবে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা লংমার্চে নেতৃত্ব দেবেন।
সভায় লংমার্চ কর্মসূচির সফলভাবে বাস্তবায়নে থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটে প্রস্তুতিসভা, গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিতরণ, প্রশাসনের সাথে যোগাযোগসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো: ইজ্জত উল্লাহ। অন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, এনসিপির খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামীম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মো: সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: হানিফ উদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, লেবার পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদার, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) খুলনা মহানগর সেক্রেটারি মো: আবু বকর মোড়ল, মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, মহানগরী জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, খেলাফত আন্দোলন খুলনা মহানগরের মূখপাত্র মো: সাকিব বিল্লাহ, খুলনা মহানগর জাগপার মূখপাত্র মাহমুদ হাসান, এবি পার্টির মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








