
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বড় ভাইয়ের মৃত্যুর আধা ঘণ্টা পর মারা গেছেন ছোট ভাইও। জীবদ্দশায় দুই ভাইয়ের মধ্যে ছিল গভীর সখ্য। কর্মজীবনেও তারা ছিলেন একসাথে। মৃত্যুর পরও যেন সেই বন্ধন অটুট রইল। একইসাথে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাদ জোহর হুড়ারপাড় গ্রামের ঈদগাহ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বড় ভাই আব্দুল জলিল মিয়া (৭৫) মারা যান। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর ছোট ভাই জয়নাল আবেদীন জুনু (৭০) নিজ বাড়িতে মারা যান। তারা উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের হুড়ারপাড় গ্রামের মরহুম আস্কর আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে ছোট ভাই জয়নাল আবেদীন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর নিজ বাড়িতে তারও মৃত্যু হয়।
দুই ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।
নিহতদের ভাতিজা জসীমউদ্দীন বলেন, ‘আমার দুই চাচার মধ্যে আজীবন গভীর মেলবন্ধন ছিল। জীবনের শুরুতে তারা দু’জন একসাথে আদমজী জুট মিলে চাকরি করতেন। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবার একসাথেই বাড়িতে ফিরে আসেন। মৃত্যুর ক্ষেত্রেও তাদের আলাদা করা গেল না।’
মৃত্যুকালে আব্দুল জলিল মিয়া স্ত্রী, পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। অন্যদিকে জয়নাল আবেদীন জুনু স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
চান্দলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মুরাদ বলেন, ‘জীবদ্দশায় দুই ভাইয়ের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ক ছিল। একইদিনে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের এমন প্রস্থান সত্যিই বিরল ও হৃদয়বিদারক। তাদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








