নদী ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ
নদী ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ। নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমার সাথে সাথে বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীরবর্তী বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

Advertisement

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও কমার সময় রৌমারীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইশপাড়া ও খেদাইমারী ও চর শৌলমারী ইউনিয়নের পাখিউড়া, ঘুঘুমারী, সুখের বাতি, গেন্দার আলগা, সোনাপুর ও চর ইটালুকান্দা এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারতের আসাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোত ব্রহ্মপুত্রের পূর্বতীরে আঘাত হানায় এসব এলাকায় নদী ভাঙন তীব্র হয়। পানি কমে গেলেও স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন এবং নদীর পাড়ে টান পড়ায় কোথাও কোথাও হঠাৎ করে মাটি ধসে পড়ছে।

ছবিতে দেখা যায়, নদীপাড়ের একটি অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কিনারায় দাঁড়িয়ে আতঙ্কে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ। কোথাও মাত্র কয়েক ফুট দূরে রয়েছে বসতভিটা ও চলাচলের পথ। সামান্য ভাঙন বাড়লেই এসব জায়গা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, যুগের পর যুগ ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবারকে একাধিকবার বসতভিটা পরিবর্তন করতে হয়েছে। কেউ জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়েছেন অন্যত্র গিয়ে বসতি গড়তে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে চর শৌলমারী ও বন্দবেড় ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী জনপদগুলোতে ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বাসিন্দা বলেন, নদী আমাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা কেড়ে নিচ্ছে, সেই আতঙ্কে দিন কাটে।

তাদের দাবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন করে জিও ব্যাগ, ব্লক ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।

ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনে শুধু মাটি নয়; হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের ঘর, ফসল, স্মৃতি ও জীবিকার অবলম্বন। নদীর কূলে দাঁড়িয়ে প্রতিদিনের এই ভাঙন দেখছেন মানুষ। কিন্তু তাদের প্রশ্ন, এই ভাঙনের শেষ কোথায়?