
বিয়ের তিন মাস না পেরোতেই স্ত্রীকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করেন স্বামী। চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ভারতীয় পাচারকারীদের হাতে তুলে দেয়ার প্রস্তুতি ছিল বলে পুলিশের দাবি।
ভ্রমণের কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে আসা হয় জাফলংয়ে। ওঠানো হয় বল্লাঘাটের একটি আবাসিক হোটেলে। সেখানে স্বামী ও তার তিন বন্ধুর গোপন কথাবার্তা শুনে সন্দেহ হয় তরুণীর। সুযোগ বুঝে পুলিশকে ফোন দেন তিনি।
খবর পেয়ে সোমবার রাত ৮টার দিকে ওই হোটেলে অভিযান চালায় গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। পাচারের আগেই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তার স্বামী আশিকুর রহমানসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহের ভালুকার আওলাতলী গ্রামের আশিকুর রহমান প্রায় তিন মাস আগে ওই তরুণীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করেন তিনি। একপর্যায়ে ভারতীয় পাচারকারীদের কাছে তাকে চার লাখ টাকায় দেয়ার চুক্তি হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। পরে ভ্রমণের কথা বলে স্ত্রীকে জাফলংয়ে নিয়ে আসেন আশিকুর। সেখানে ওঠেন বল্লাঘাটের একটি আবাসিক হোটেলে। পরে তাঁর তিন বন্ধু জহিরুল ইসলাম, কাওছার ও সাগর মিয়াও একই হোটেলে ওঠেন।
পাচারের বিষয়ে স্বামী ও তার বন্ধুদের কথাবার্তা শুনে বিষয়টি আঁচ করতে পারেন ওই তরুণী। এরপর পুলিশকে ফোন করে সহায়তা চান তিনি। গোয়াইনঘাট থানার উপ-পরিদর্শক রাজিব রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের দল হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এসময় আশিকুরসহ চারজনকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন— একই উপজেলার নিশ্চাম গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে জহিরুল ইসলাম, পালগাঁও গ্রামের মোনছের আলীর ছেলে কাওছার এবং গোবুদিয়া গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে সাগর মিয়া।
উদ্ধার হওয়া নারী খুকি আক্তার মীম বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাচারের শিকার হতে যাওয়া নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








