
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেলার গেট থেকে তুলে নিয়ে সাথে থাকা স্বামী ও ভাইকে জিম্মি করে এক নারী শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ঘটনায় মামলা গ্রহণে অনীহার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। মামলা না নেয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ওই শ্রমিকের ডাক্তারি পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়নি। এই ঘটনায় সাংবাদিকদের ফোন পেয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা রেকর্ড করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় ওই নারী শ্রমিককে তার স্বামী ও ভাইসহ আড়াইহাজার উপজেলা সংলগ্ন একটি মেলা থেকে তুলে নেয়া হয়। এরপর তাদের সাথে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পাশের একটি ভবনের নিচে আটকে রাখা হয়। সেখানেই রাত ৩টা পর্যন্ত ওই নারী শ্রমিককে ৭-৮ জন যুবক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে ওই নারী অভিযোগ করেন।
পরদিন শুক্রবার এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে কালক্ষেপন করেছে বলে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন। ঘটনার শিকার নারী আড়াইহাজারের ভাই ভাই স্পিনিং মিলে কাজ করেন।
তবে আড়াইহাজার থানার এসআই আবদুল বাছেদ দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ায় তারা ধর্ষণ মামলাটি নেননি। তা ছাড়া সংঘবদ্ধ ঘর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভিকটিমের শরীরে যে ধরনের অবস্থা হওয়ার কথা সেটি ছিল না।
তবে এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সবজেল হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী শ্রমিক জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি স্বামী ও ছোট ভাইয়ের সাথে উপজেলা সংলগ্ন একটি মেলায় ঘুরতে যান। রাত ১২টার দিকে মেলা থেকে বেরিয়ে আসার পথে রবিন নামে এক যুবকের নেতৃত্বে ৭-৮ জন তাদের পথ রোধ করে। এরপর তাদের পাশের একটি ভবনের নিচ তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাদের সাথে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।
এরপর তাদের কাছে মোবাইল ফোন চাওয়া হয়। মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখে এসেছেন বললে বাসার ঠিকানা নিয়ে রবিনসহ বেশ কয়েকজন ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে। এরপর তাদের মুক্তিপণের জন্য ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এত টাকা কোনোভাবেই দেয়া সম্ভব নয় বলে জানানোর পর স্বামী ও ভাইকে এক পাশে বসিয়ে রেখে ভবনের অন্য পাশে নিয়ে ওই নারীকে ৭-৮ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। রাত ৩টায় তাদের ছেড়ে দেয়া হলে পরদিন শুক্রবার সকালে গিয়ে তিনি রবিনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৬-৭ জনকে আসামি করে ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ দেন।
কিন্তু পুলিশ মামলাটি না নিয়ে কালক্ষেপন করে বলে তার অভিযোগ। পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বললেও পরে আর পরীক্ষা করাননি এবং মামলাও গ্রহণ করেনি। এভাবেই কেটে গেছে ৫ দিন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত রবিনের সাথে ওই নারীর বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সে অন্য একজনকে বিয়ে করে সংসার করছেন। ওই ক্ষোভ থেকে রবিন টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।
ওসি আরো জানান, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








