
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় বেওয়ারিশ ও ক্ষ্যাপা কুকুরের তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো স্থানে পথচারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। গত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ভীতি বিরাজ করছে, যা ব্যাহত করছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে বেওয়ারিশ কুকুর দলবদ্ধভাবে ঘোরাঘুরি করছে। সুযোগ পেলেই সামনে থাকা পথচারী, শিশু বা বৃদ্ধের ওপর দলবেঁধে আক্রমণ চালাচ্ছে। গত তিন দিনে কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে রয়েছেন কেউন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্বপ্না রানী, শিক্ষার্থী আকাশ হালদার, প্রদীপ, আব্দুল্লাহ, রাইসা, মাহিরা এবং স্থানীয় বাসিন্দা হেমায়েত উদ্দিন।
কাজী হারুন অর রশিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বীথিকা সাহা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকাশকে কুকুরে কামড়ানোর পর থেকে শিশুদের মধ্যে সবসময় একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোমলমতি শিশুরা স্কুলে আসতে ভয় পাচ্ছে।’
অভিভাবক ফারজানা মুনমুন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কুকুরের আতঙ্কে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। এখন বাধ্য হয়ে নিজেদেরই বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসতে হয় এবং ছুটির পর গিয়ে নিয়ে আসতে হয়। এতে আমাদের দৈনন্দিন কর্মঘণ্টা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিশু কুকুরের ভয়ে স্কুলে যেতেই চাইছে না।’
উপজেলায় কুকুরের তাণ্ডব ও চিকিৎসার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সুব্রত কর্মকার বলেন, ‘গত তিন দিনে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের অন্তত নয় জন পথচারী কুকুরের কামড়ের চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে আব্দুল্লাহ নামের এক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: সোমা সরকার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলকে সচেতন থাকতে হবে ও বিশেষ করে শিশুদের দিকে আলাদা নজর রাখতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে এলাকায় জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছি।’
এদিকে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ ও অভিভাবকরা দ্রুত ক্ষ্যাপা ও বেওয়ারিশ কুকুরগুলো শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








