
ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুতের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও চার বিদ্যুৎ গ্রাহক আহত হন। এ ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ঘটনা ভিন্ন দিকে যাতে প্রবাহিত না হয় সেদিক বিবেচনা করে পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ অফিসে চার বিদ্যুৎ গ্রাহককে মারধররে অভিযোগে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। পরে তারা ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন।
অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে জানান আবাসিক বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মো: ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ডাকবাংলো মোড় ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ অফিসে এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
আহত পাঁচজন হলেন— উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: মনিরুজ্জামান মনির, বিদ্যুৎ গ্রাহক মো: শরিফ, মো: আক্তার, সোহাগ ও নিরব। তারা হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহক।
জানা যায়, মনপুরায় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা রাতে মাত্র দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সমস্যা নিয়ে গ্রাহকরা অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যান। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ চার বিদ্যুৎ গ্রাহক আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা তাদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল করে ইউএনও কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন। অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়।
এ ব্যাপারে আহত বিদ্যুৎ গ্রাহক শরিফ, আক্তার, সোহাগ ও নিরব জানান, রাতে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেয়ার নিয়ম থাকলেও মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। তাছাড়া একটু বেশি সময় বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য অতিরিক্ত টাকা চায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির। টাকা না দিলে লাইন কেটে দেয়। এ সমস্ত অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির ক্ষেপে গিয়ে মারধর করে জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরের বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ অফিসের (ওজোপাডিকো) দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: মনিরুজ্জামান মনির জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্রাহকরা কোনো কথা না শুনে আমার ওপর হামলা করে মারধর করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছি। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত টাকার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
মনপুরার আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো: ফরিদুল ইসলাম জানান, পাওয়ার হাউজের তিনটি মেশিনের মধ্যে দু’টি নষ্ট। একটি দিয়ে কোনোমতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের মারধর করা ঠিক হয়নি। যারা ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো জানান, তিনি এখন সন্দীপে অবস্থান করছেন। সন্দীপ পাওয়ার হাউস থেকে একটি মেশিন এনে মনপুরার বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক করা হবে।
এ ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা তজুমদ্দিন উপজেলার সহকারী কমিশনার তড়িৎ চন্দ্র শীল জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়ে গেছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








