ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও টাকা দাবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি
ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও টাকা দাবির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি। নয়া দিগন্ত

নাটোরের লালপুরে এক নারীকে (২৪) ধর্ষণ, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী চারজনের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা করেছেন।

Advertisement

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে লালপুরে আশিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার তিনজন হলেন— উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের আজের আলীর ছেলে আশিক জামান (২০), হাফিজুল ইসলামের ছেলে কাজল ইসলাম (১৯) ও জোতদৈবকী গ্রামের সাইদুল ইসলাম ভেগা মন্ডলের ছেলে শাকিল ইসলাম বাদল (২৩)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশিক জামানের সাথে দেখা করতে লালপুরের গোপালপুর রেলগেটের দক্ষিণ পাশে সিএনজি স্ট্যান্ডে যান ওই নারী। পরে আশিক ও কাজল তাকে ইজিবাইকে করে গ্রিনভ্যালি পার্কে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ভুক্তভোগী নারীকে জোতদৈবকী গ্রামের শাকিলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, শাকিলের বাড়িতে আশিক ওই নারীকে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শাকিল গোপনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে কাজলও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়, ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে মেহেদী নামে আরেক ব্যক্তি ওই কক্ষে গিয়ে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেন এবং ওই নারীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তার মোবাইলফোন নিয়ে নেয়া হয়।

পরদিন (৪ অক্টোবর) আশিক ফোন করে আরো ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে শাকিলের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে তাদের পরামর্শে থানায় গিয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।

লালপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: ইব্রাহিম খলিল মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে অভিযান চালান। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উত্তর লালপুরে আশিকের বাড়ি থেকে আশিক, কাজল ও শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সাথে গ্রেফতার তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

লালপুর থানার মামলার নথি অনুযায়ী, গ্রেফতার কাজল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের একটি চুরি, চোরাই মাল গ্রহণ ও ভাঙচুরের মামলা রয়েছে। শাকিল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে একই বছর লালপুর আদালতে দায়ের করা মারামারি, হত্যাচেষ্টা ও হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা রয়েছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, দায়ের করা মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।