পদত্যাগপত্র নেয়ার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি
ফেনীর ম্যাপ। নয়া দিগন্ত

ফেনী সদর উপজেলার বোগদাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল হককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগে দুই যুবদল নেতা সৈয়দ মিজানুর রহমান ও কামরুল হাসান হারুনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

Advertisement

অভিযোগে বলা হয়েছে, কামরুল হাসান হারুন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি প্রার্থী। আর সৈয়দ মিজানুর রহমান সক্রিয় কর্মী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী নওশীদ হামিদা স্বপ্না ও আঞ্জুমান আক্তার প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যায়। তাদের একজন সংশোধিত রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখার জন্য এবং অন্যজন ছুটির জন্য সেখানে যায়। প্রধান শিক্ষক কম্পিউটারে সংশোধিত রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখার পর ছুটি দেয়া হবে না জানিয়ে তাদের শ্রেণিকক্ষে চলে যেতে বলেন।

প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিজানুর রহমান ও হারুন বিষয়টি মিথ্যাভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে তারা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা দোষারোপ করেন। এ সময় ওই দুই শিক্ষার্থীকে মিথ্যা কথা বলার জন্য শেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বলেন, একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়। পরে তিনি স্বেচ্ছায় প্রধান শিক্ষক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন—এমন বক্তব্য ওই কাগজে লিখিয়ে নেয়া হয়। এ সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে নাজেহাল, অপমান ও অপদস্থ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নিলে ওই দুই শিক্ষার্থী অথবা অন্য কাউকে দিয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একই সাথে তাকে বিদ্যালয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: হাসান বলেন, তারা পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং ছাত্রীদের অভিযোগও শুনেছেন। একইসাথে প্রধান শিক্ষকের আপত্তির বিষয়টিও এসেছে। এ কারণে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগটি তদন্তের জন্য বোগদাদিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠানো হয়েছে।

জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাং আলমগীর চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক কোনো অপরাধ করে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে কোনো বিধি না মেনে লোকজন জড়ো করে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেয়ার ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নুরুল আমিন বলেন, তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও বিষয়টি এমপি মহোদয়কে জানানো হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।