জামায়াত নেতা
লোহাগড়ায় নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার শোকাহত পরিবারের পাশে এমপি বাচ্চু। নয়া দিগন্ত

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ইসলাম শেখ (৫২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকাহত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন ওই আসনের (নড়াইল-২) সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চু। 

Advertisement

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে লোহাগড়ার রঘুনাথপুর গ্রামে নিহত ইসলাম শেখের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী জাহানারা বেগমসহ সন্তানদের খোঁজখবর নেন। 

এ ছাড়া ইসলাম শেখের ভাইসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। এদিকে, আসামিপক্ষের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরও ঘুরে দেখেন এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু।

তিনি পুলিশ প্রশাসনকে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া আসামিপক্ষের আর কোনো বাড়িঘরে যেন কেউ হামলা করে ক্ষয়ক্ষতি না করে সেদিকেও পুলিশকে সতর্ক থাকার জন্য বলেন। 

এমপি বাচ্চু বলেন, ‘বিদেশ সফরে থাকায় এখানে (ইসলাম শেখের বাড়িতে) আসতে দেরি হয়েছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জামিরুল হক টুটুল, লোহাগড়া উপজেলা আমির মাওলানা হাদিউজ্জামান, সেক্রেটারি মাওলানা সেকেন্দার আলী খান, জামায়াত মনোনীত শালনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাহিদ জামাল, ইউনিয়ন আমির মাওলানা খান হোসাইন আহমেদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

নিহত ইসলাম শেখের পরিবার জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে পাশের লাহুড়িয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রঘুনাথপুর কবরস্থান এলাকায় ওত পেতে ইসলাম শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। ঘটনার দুদিন পর নিহতের স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদী হয়ে শালনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি টিপু সুলতান এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামানসহ প্রতিপক্ষ ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে রঘুনাথপুর-তালতলা বাজার এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

এদিকে ঘটনার পর আসামিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে বাদীপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেকে গ্রেফতার এবং আদালতে হাজির হয়েছেন। এ ছাড়া বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।’