আদালত
উজিরপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সরকারি জমিতে বসতঘর। নয়া দিগন্ত

ছয় বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে। বিরোধীয় জমিতে রয়েছে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। জমির মালিকানা, সীমানা ও দখল — কোনোটিরই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যেই বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরকারি সম্পত্তির একাংশে নতুন করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, তৃতীয় পক্ষ হিসেবে অমল সাহা ও তার ছেলে দীপঙ্কর ওই স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।

Advertisement

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই জায়গায় নির্মাণকাজ করা হয়। একই সাথে সরকারি জমিতে থাকা একটি আমগাছ কেটে ফেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় সরকারি জমিতে কীভাবে নতুন স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি নথি ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হারতা তহসিলের ১৫১৫ দাগে সরকারের ৫১ শতক জমি রয়েছে। ওই জমির একটি অংশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রায় ২২ শতক জমি দখলে রয়েছে। এর মধ্যেই ওই জমির অংশে নতুন করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে হারতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওই সরকারি সম্পত্তিতে গিয়ে দেখা যায়, জমির একাংশে নতুন একটি বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজের চিহ্ন রয়েছে। আশপাশে পড়ে আছে নির্মাণসামগ্রী। জমির এক পাশে একটি আমগাছ কেটে ফেলার চিহ্নও দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, জায়গাটিতে আগে থেকেই দখলের আলামত ছিল।

জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে স্থানীয় সুকদেব মণ্ডল ও সুশান্ত মণ্ডল ২০১৯ সালে আদালতে মামলা করেন। বাদীপক্ষের ভাষ্য, মামলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, জেলা প্রশাসক, বরিশাল এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় অমল সাহা ও তার ছেলে দীপঙ্কর ওই বিরোধীয় জায়গায় বসতঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ তাদের।

বাদী সুকদেব মণ্ডল বলেন, মামলাটি এখনো চলমান। আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়েছে। এরপরও অমল সাহা ও তার ছেলে দীপঙ্কর বিরোধীয় জায়গায় নতুন করে বসতঘর নির্মাণ করেছেন। সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ করে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

অভিযোগের বিষয়ে অমল সাহা ও তার ছেলে দীপঙ্করের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হারতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরকারি কর্মকর্তা মোরসেদ রিয়াজ বলেন, ১৫১৫ দাগে সরকারের ৫১ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২২ শতক জমি দখলে থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ওই জমিতে থাকা তিনটি গাছের মধ্যে একটি আমগাছ কেটে ফেলার বিষয়টিও তিনি জানতে পেরেছেন।

উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খাতুন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ ও দখলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। আদালতের কোনো আদেশ থাকলে সেটিও যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ছয় বছর ধরে মামলা চলমান এবং আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সরকারি জমিতে নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ করে দখলের প্রকৃত অবস্থা বের করা এবং আদালতের আদেশ থাকলে তা যথাযথভাবে কার্যকর করা হোক।