
বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি ২০২৪ ও ২০২৫-এর নির্বাচিত ৬৯ শিক্ষার্থীর মাঝে সম্মানী, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) আয়োজনে পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, ‘সহকর্মীদের সন্তানদের মেধার স্বীকৃতি ও তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ এ মেধাবৃত্তির আয়োজন করেছে। সব বিষয়ে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে এ প্লাস অর্জন করে মেধাবৃত্তি লাভ করা অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন করেছে।’
তিনি মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান।
মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, ‘সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে অভিভাবকদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর নিম্নপদস্থ অনেক সদস্য নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাই শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলেই হবে না, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভালো মানুষ হতে হবে এবং মা-বাবার ত্যাগের মূল্য দিতে হবে।’
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া জীবনের একটি ধাপ মাত্র। এখান থেকেই নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অনেকে বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, মেডিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।’
ভবিষ্যতে তারাই সমাজ, দেশ ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ফলাফল আশানুরূপ না হওয়া শিক্ষার্থীদেরও হতাশ না হয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে আরো পরিশ্রম করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘জীবনে সফলতার জন্য সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করে সময়মতো ঘুমানো ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থী কানিজ ফাতিমা মিম তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম, রাত জেগে পড়াশোনা এবং বাবা-মায়ের ত্যাগের ফলেই তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন। মেধাবৃত্তি অর্জন তাকে আরো দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যুক্ত হোন না কেন, পেশাগত পরিচয়ের আগে একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য।’
বাংলাদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল অভিভাবক বলেন, ‘চাকরির ব্যস্ততা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সন্তানদের লেখাপড়ায় সময় দেয়া, ভালোবাসা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়াই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা শারীরিক শাস্তি না দিয়ে ধৈর্য ও সহানুভূতির সাথে উৎসাহিত করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত ফল না হলেও হতাশ না হয়ে শিক্ষার্থীদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’
অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী মোট ৬৯ শিক্ষার্থীর হাতে সম্মানী, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়। এ সময় কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো: ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনারের (সদর) দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: নূর আলম সিদ্দিকী, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো: গোলাম রব্বানী শেখ, উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো: আবুল কালাম সাহিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো: গাজিউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








