দুর্ঘটনা, নিহত, নিসচা
সিলেটে গত ৯ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮৮ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। সংগৃহীত

সিলেট বিভাগের সড়কে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২৮৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত মাস সেপ্টেম্বরে নিহত হয়েছেন ২৬ জন ও আহত হয়েছেন আরো ৫১ জন। একই সময়ে ২৬৫টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬৩০ জন। সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি আগস্টের তুলনায় কমলেও সড়কে মৃত্যুর ধারাবাহিকতা থামেনি।

Advertisement

রোববার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বিভাগের চার জেলায় ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন। আগস্টে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছিলেন। 

অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরে দুর্ঘটনা কমেছে নয়টি, নিহত কমেছে ২১ জন এবং আহত কমেছে ৭১ জন।

নয় মাসে ২৮৮ মৃত্যু 
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিসচার হিসাবে ২৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮৮ জন নিহত ও ৬৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩২টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন, মার্চে ২৯টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন, এপ্রিলে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন, মে মাসে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৫১ জন, জুনে ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন, জুলাইয়ে ২৮টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন, আগস্টে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন এবং সেপ্টেম্বরে ২৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন।

নয় মাসের হিসাবে মে মাসেই সর্বোচ্চ ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর আগস্টে ৪৭ জন। সেপ্টেম্বরের ২৬ জনের মৃত্যু তুলনামূলক কম হলেও তা মাসটিকে মৃত্যুহীন করেনি, বরং গড়ে প্রায় একজন করে মানুষ প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

সেপ্টেম্বরে মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু 
সেপ্টেম্বরে চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে মৌলভীবাজারে। জেলাটিতে নয়টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। সিলেটে আটটি দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত ও ১০ জন আহত, হবিগঞ্জে পাঁচটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ১০ জন আহত এবং সুনামগঞ্জে চারটি দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন।

সেপ্টেম্বরে নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২২ জন পুরুষ, দু’জন নারী ও দু’জন শিশু। তাদের মধ্যে ১০ জন মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী এবং ১১ জন সিএনজি ও টমটমের চালক-আরোহী। এ ছাড়া ১০ জন চালক ও দু’জন পথচারী নিহত হয়েছেন।

নিসচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের নয়টি দুর্ঘটনায় ১০ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী এবং ১০টি দুর্ঘটনায় ১১ জন সিএনজি ও টমটমের চালক-আরোহী নিহত হয়েছেন।  ১০টি দুর্ঘটনায় ১০ জন চালক এবং দু’টি দুর্ঘটনায় দু’জন পথচারী নিহত হয়েছেন।

মুখোমুখি সংঘর্ষে বেশি মৃত্যু
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে ঝুঁকির চিত্র। সেপ্টেম্বরে মুখোমুখি সংঘর্ষের আটটি ঘটনায় নয়জন নিহত হয়েছেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে যাওয়ার আটটি ঘটনায় ছয়জন এবং গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কার একটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

এর আগের মাস আগস্ট ছিল আরো ভয়াবহ। ওই মাসে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত হন। শুধু সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশেই ১০টি দুর্ঘটনায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ওসমানীনগরে মাত্র তিনটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৫ জনের।

বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ে ঝুঁকি
নিসচার প্রতিবেদনে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নিয়ম না মেনে বেপরোয়া ওভারটেকিং, অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন মহাসড়কে চলাচল, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের অসচেতনতা এবং সড়ক নির্মাণের ত্রুটিকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিসচা সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেট জেলা সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু জানান, কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম, জাতীয় দৈনিক এবং নিসচার সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শাখার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সড়কে মৃত্যুরোধে চালকদের বেপরোয়া ও প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। একইসাথে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে বাধ্য করা এবং সড়কের ত্রুটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’