গ্যাস
গ্যাসের সিলিন্ডার। নয়া দিগন্ত

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় খুচরা পর্যায়ে অস্বাভাবিক দাম নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও আশুলিয়ার প্রত্যেকটি এলাকাতে তা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। আবার কোথাও কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এতে বিপদে পড়েছেন শ্রমজীবি মানুষসহ নিম্ন আয়ের মানুষজন।

Advertisement

‎এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিইজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেশি নেয়ার ফলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণসহ প্রশাসন তদারকির মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেলেও ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় এ ধরনের কোনো অভিযান হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

‎আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শ্রমজীবি মানুষ সহ বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বাভাবিকভাবে চলা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে এরপরে আবার বাসাবাড়িতে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডার কিনতে হওয়ায় সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

‎আশুলিয়ার গোহাইলবাড়ি ডিজাইনার ফ্যাশনের নারী শ্রমিক মমতা আক্তার। দুই মেয়ে নিয়ে সংসার তার। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিও তিনি নিজে। অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে তিনি জানান, মাসে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা বেতন পান। দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ, বাসা ভাড়া, আবার খেতেও হয়। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাড়তি দামের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সিলিন্ডার গ্যাসেরও দাম বেড়েছে। চড়া দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে সিলিন্ডার। এতে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে৷

‎আশুলিয়ার কুটুরিয়া বাঘেরচালা এলাকার আসাদুল ইসলাম। স্থানীয় ডেকো গার্মেন্টসের স্যুইং অপারেটর তিনি। কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা বেতন পান তিনি। এ থেকে ছেলে মেয়ের পড়াশোনা চার হাজার, ঘর ভাড়া সাড়ে তিন হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিল ৫০০টাকা, খাওয়া দাওয়া আবার গ্যাস হয় কিনতে। গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তি নিচ্ছে স্থানীয় দোকানদারগণ। একটা ১২ কেজির সিলিন্ডার দাম নেয় ২২০০ টাকা। অথচ সরকার নাকি দাম নির্ধারণ করে দিছে আরো অনেক কম।

‎তিনি জানান, তার চেয়ে কম বেতনের হেলপার বা আয়রনম্যানরা কীভাবে চলবে? অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

‎খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একই ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের দাম দোকানভেদে ভিন্ন ভিন্ন। সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও মুদি দোকানে এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।

‎আশুলিয়ার গোহাইলবাড়ি এলাকার এক মুদি দোকানী দেলোয়ার হাসান বলেন, ‘ডিলার যারা রয়েছে তারা গাড়ি করে গ্যাসের সিলিন্ডার দোকানে দিয়ে যান। এতে ১২ কেজির গ্যাসে সিলিন্ডার কিনতে হয় ১৯০০ টাকা দিয়ে। বাধ্য হয়েই ৫০ টাকা কিংবা ১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা খুচরা দোকানদার বেশি দামে কিনতে হয়, তাই একটু বেশি দামেই বিক্রি করি।’ 

তবে এটা নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানান তিনি।

‎আশুলিয়ার টেংগুরি এলাকার গ্যাসের ডিলার রিপনের সাপ্লাইম্যান সবুজ জানায়, কোম্পানী থেকেই তাদের বেশি দামে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা পর্যায়ে তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এছাড়া অন্যকিছু বলতে নারাজ তিনি।

‎এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, ‘যে ডিলারগণ বেশিদামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে তাদের তথ্যগুলা একটু শেয়ার করবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’