মোগলহাট স্থলবন্দর
কথা বলছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাটের প্রায় চার দশক ধরে বন্ধ থাকা মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে ভারতের সাথে প্রয়োজনীয় সমঝোতা জরুরি বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।

Advertisement

রোববার (৪ অক্টোবর) মোগলহাট স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন মোগলহাট জিরো পয়েন্টে এ সভার আয়োজন করে।

রাজীব আহসান বলেন, ‘মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির সাথে সরকার একমত। বাংলাদেশের অংশে বন্দর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল প্রস্তুতের সক্ষমতা রয়েছে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এরই মধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বন্দর হওয়ায় শুধু বাংলাদেশের প্রস্তুতি থাকলেই কার্যক্রম শুরু করা যাবে না। ভারতের পক্ষেও বন্দর কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমঝোতা থাকতে হবে। দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে বন্দরটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হবে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর জন্য নদীর ওপর সেতু, সড়ক যোগাযোগ, শুল্ক স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বন্দরটি চালু হলে লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে গতি আসবে।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘ভারতের সাথে আলোচনা করে মোগলহাট স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নেবে। বন্দরটি চালু করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগের সরকারের সময়ে মোগলহাট স্থলবন্দর চালু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির কথা শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো চুক্তি হয়নি। এখন নতুন করে ভারতের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মতবিনিময় সভায় মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাব্যতা, বর্তমান অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনজারুল মান্নান সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা: রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।