
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিলেটে আগামী ৫ অক্টোবর থেকে দুই দিনব্যাপী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ পালনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সিলেটের আবাসন ও নগরায়ণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সিউক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
তিনি জানান, জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ অক্টোবর সোমবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী দিবসটি পালিত হবে।
সিলেটে এর আগে গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হলেও এবারই প্রথম সিউকের উদ্যোগে বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে বৃহৎ পরিসরে দুই দিনব্যাপী দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
এবারের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রিকাবীবাজার স্টেডিয়াম-সংলগ্ন মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
দুই দিনের কর্মসূচি
৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রতিপাদ্য বিষয়ে আলোচনা সভা। দুপুর ১টায় উদ্বোধন করা হবে ইলেকট্রনিক নির্মাণ অনুমোদন ব্যবস্থা (ইসিপিএস)। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দিনব্যাপী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আবাসন ও নগরায়ণবিষয়ক ভাবনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল, নগরায়ণ ও আবাসনবিষয়ক মডেল এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।
৬ অক্টোবর সকাল ১০টায় পরিবেশ সুরক্ষায় আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টায় টেকসই নগরায়ণ ও আবাসনবিষয়ক বিশেষ সেমিনার হবে। বেলা সাড়ে ১২টায় ভাবনা ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। বিকেল ৫টায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনের আয়োজন শেষ হবে।সিউক চেয়ারম্যান বলেন, সিলেটকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সিউক কাজ করছে। বিশ্ব বসতি দিবসকে কেন্দ্র করে এবারই প্রথম আবাসনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে।
দিবসটি উদযাপনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ, ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্ম যুক্ত রয়েছে। আবাসন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এতে অংশ নিচ্ছে।
তরুণ প্রজন্মকে পরিকল্পিত নগরায়ণে উৎসাহিত করতে চিত্রাঙ্কন, আবাসনবিষয়ক ভাবনা প্রতিযোগিতা, মডেল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নগরায়ণসংশ্লিষ্ট ৩০টির বেশি ভাবনা জমা পড়েছে। প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।
৫০০ একরের ‘গ্রিন ইকো ভিলেজ’
আবাসন সমস্যা দূর করতে ৫০০ একর জায়গার ওপর একটি পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ইকো ভিলেজ’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি বলেন, ওই আবাসন প্রকল্পে সাংবাদিকদের জন্য ‘সাংবাদিক পল্লী’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন। নগরীর আবাসন সমস্যা, অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে সিউক সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে ৫০০ একর জায়গার ওপর ‘গ্রিন ইকো ভিলেজ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
কয়েস লোদী বলেন, ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রার শুরু থেকেই নাগরিক সেবা সহজীকরণ ও পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা শুধু ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না; একটি বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত সিলেট গড়ে তুলতে চাই।’
ঘরে বসেই নির্মাণ অনুমোদনের আবেদন
নাগরিক সেবা সহজীকরণে সিউকের নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, খুব শিগগিরই ইসিপিএস (Electronic Construction Permitting System) চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীরা ঘরে বসেই নির্মাণসংক্রান্ত আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনলাইনে অনুসরণ করতে পারবেন।
ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে নাগরিকদের সময় ও শ্রম কমবে এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলেও জানান তিনি।
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে জানিয়ে সিউক চেয়ারম্যান বলেন, এর মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকেও প্রবাসীরা সিউকের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সিউক চেয়ারম্যান বলেন, সিলেটের পরিকল্পিত বিকাশে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়েই পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে তারা কাজ করতে চান।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








