আলু চাষি
আলু নিয়ে বিপাকে সংরক্ষণকারীরা। নয়া দিগন্ত

নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বীজ আলু সংরক্ষন করে বিপাকে চাষি ও ব্যবসায়ীরা। গত বছরের ন্যায় চলতি বছরেও বীজ আলুর দাম না থাকায় হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর ভাড়া ও উৎপাদন ব্যায়সহ অন্যান্য খরচ না উঠায় কয়েক কোটি টাকা লোকসানের আশংখা করছেন তারা। তাদের অভিযোগ এমনিতেই পানির দরে আলু বিক্রি হচ্ছে তার ওপর সরকার কর্তক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কৌশলে বেশি ভাড়া নিচ্ছে হিমাগার মালিকরা। 

Advertisement

চাষিদের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলু উৎপাদন থেকে সংরক্ষন পর্যন্ত প্রতি কেজি আলুতে খরচ হয় ২২ থেকে ২৪ টাকা। সরকার হিমাগারে আলু সংরক্ষনের জন্য নিদিষ্ট ভাড়া নির্ধারন করে দিলেও আলু বিক্রির ক্ষেত্রে কোন দাম নির্ধারন করা হয় না। বর্তমান খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খাওয়া আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা থেকে ১৬ টাকা কেজি দরে। আর হিমাগারগুলোতে বীজ আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে। যেখানে সরকার প্রতিকেজি আলুর সংরক্ষন ভাড়া ছয় টাকা কেজি নির্ধারণ করে দিয়েছে সেখানে হিমাগার মালিকরা তা মানছেন না তারা তাদের নিজস্ব দামে প্রতিবস্তা ৪০০ টাকা হিসাবে সংরক্ষনকারীদের কাছ থেকে আদায় করছেন। 

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জে অবস্থিত মুক্তা হিমাগারে গিয়ে আলু চাষি পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা সানার আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি এই হিমাগারে ৩৫০ বস্তা বীজ আলু সংরক্ষন করেছি। ইতিমধ্যে ১৫০ বস্তা আলু হিমাগার থেকে বের করেছি। হিমাগার কর্তপক্ষ প্রতিবস্তা আলুর জন্য ৪০০ টাকা করে ভাড়া নিয়েছে। সরকারিভাবে যেখানে কেজি প্রতি ছয় টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে সংরক্ষণ ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। অনেক আলোচনা সমালোচনা পর থানা থেকে পুলিশ আসলো কিন্তু ভিতরে ভিতরে কি হল জানি না। কোনো কাজ হল না ৪০০ টাকাই দিতে হচ্ছে।’ 

হিমাগারে আলু নিতে আসা চাষি আনারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন ক্ষুদ্র কুষক আমি এই হিমাগারে ২০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করার সময় হিমাগার কর্তপক্ষ ৫৫ থেকে ৬০ কেজি আলু বস্তাপ্রতি রাখতে বলেছে। সরকার নির্ধারিত ছয় টাকা কেজি হিসাবে ৫৫ কেজি আলুর ভাড়া দাড়ায় ৩৩০ টাকা কিন্তু তারা প্রতিবস্তা ৪০০ টাকা নিচ্ছে।’ 

সোহেল রানা নামে এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ৩৫ বস্তা আলু বের করতে গেলে হিমাগার কর্তপক্ষ আমার কাছে ৪১০ টাকা করে সংরক্ষণ ভাড়া নিয়েছে। আমি এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি কোন ব্যাবস্থা না নেয়ায় আমি বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি যাহার ক্যাশ মেমো ও গেট পাশ নম্বর ১৮৪৯০ ও ১৮৪৮৯।’

আলু ব্যাবসায়ী আনোয়ার হোসেন, আনরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান লুতু বলেন, গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন হিমাগারে হাজার হাজার বস্তা বীজ ও খাওয়ার আলু সংরক্ষন করে কয়েক কোটি টাকা লোকসান গুনেছি। এবারেও লোকসান গুনতে হচ্ছে। 

মুক্তা হিমাগারের ম্যানেজার হামিদুল ইসলামের সাথে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, ‘ভাই মালিকপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে সেভাবে কাজ হচ্ছে। এর বাইরে তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজী হননি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় আলুর উৎপাদন বেশি তাছাড়া এ বছর বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যা না হওয়ার কারনে অন্যান্য সবজির উৎপাদন বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে তাই আলুর দাম কম।’ 

হিমাগারে আলু সংরক্ষনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে হিমাগার কর্তপক্ষ বেশি ভাড়া নিচ্ছে কৃষকের এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হিমাগার ভাড়া বেশি নিলে কৃষি বিপনন অধিদফতর ব্যাবস্থা নিয়ে থাকে। আমি বিষয়টি তাদেরকে অবহিত করব।’