নিহতের বাড়িতে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়, (ইনসেটে) দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজি
নিহতের বাড়িতে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়, (ইনসেটে) দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজি। নয়া দিগন্ত

জামালপুর থেকে গাজীপুরে যাওয়ার জন্য বৃদ্ধ মা, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মোফাজ্জল হোসেন লেবু। কিন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন তারা সবাই।

Advertisement

সরেজমিনে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। একই পরিবারের চার সদস্যকে একসাথে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিহত চারজন হলেন— জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), বৃদ্ধা মা রাশিদা বেগম (৮৫), অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও নিহত মর্জিনার পাঁচ বছরের ছেলে মিনাল।

স্বজনরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে সেখানেই থাকেন তিনি।  বৃদ্ধ মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তিনি গ্রামে আসেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মা রাশিদা বেগম, দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মোফাজ্জল। নান্দিনা বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রথমে ময়মনসিংহ ও সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুর যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু পথেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

মোফাজ্জলের বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইসমতারা বলেন, ‘আমার দেবর গাজীপুরে দিনমজুরের কাজ করতেন। শাশুড়ি, ভাতিজি আর তার ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়িতে এসেছিলেন। ভাতিজি মর্জিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। একসাথে পরিবারে এতজনকে হারিয়ে শোকাহত আমাদের পরিবার।’

রানাগাছা ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না প্রতিবেশীরাও। আমি চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতদের বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। একসাথে পরিবারের চার সদস্যকে হারানোর বেদনায় শোকে কাতর হয়ে পড়েছে পরিবারসহ প্রতিবেশীরা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের বাইপাস সড়কের আকুয়া এলাকায় বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হয়েছেন।

নিহত সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা হলেন— জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), বৃদ্ধা মা রাশিদা বেগম (৮৫), অন্তঃসত্ত্বা কন্যা মর্জিনা (২৫), মর্জিনার পাঁচ বছরের ছেলে মিনাল ও একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সাথে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি সরিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির ভেতর থেকে সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি এমনভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় যে, ভেতর থেকে লাশ বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হয়েছে।