বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

দেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ নেয়া হয়েছে।

Advertisement

এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাজশাহীতে পিটিআই অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, কৃষি উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো: ইউসুফ আলী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী অফিসের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদরুজ্জামান দিদার।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চলে বৃহৎ শিল্পের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও কৃষি ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি এ অঞ্চলের প্রধান ভিত্তি। ধান-চালের বড় ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি আম, রেশম, কাঁসা, হোসিয়ারি, শাড়ি-লুঙ্গি ও মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন খাত আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে রাজশাহী অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি ও তিন হাজার কোটি টাকার দু’টি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো উচ্চ সুদহারের কারণে উদ্যোক্তাদের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কিছুটা কমানো। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় তুলনামূলক কম সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণদের মধ্যে যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে, তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘উদ্যোগ’ নামে একটি স্কিমের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে উদ্যোক্তা বাছাইয়ের মাধ্যমে পাঁচ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে স্কিমটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী নভেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় যাতে অধিকসংখ্যক প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষক সুবিধা পান, সে জন্য স্থাবর সম্পত্তি বন্ধকের পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।’

উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি পর্যন্ত পুরো কৃষি মূল্যশৃঙ্খলকে কার্যকর ও গতিশীল করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এক্ষেত্রে তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন গভর্নর।’

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার ও এর কার্যকর বাস্তবায়নের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত ও সমন্বিত সহযোগিতার ভিত্তিতে নীতিমালাগুলো বাস্তবায়ন করা হলে কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তা ভূমিকা রাখতে পারে।

একইসাথে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আরো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া এবং অর্থায়নের সুযোগ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন সভায় অংশ নেয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।