ইঁদুর, আমন ধান, কৃষক, কৃষি অফিস
ইঁদুরের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ধানগাছ হাতে কৃষক। নয়া দিগন্ত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে রোপা-আমন ধান ক্ষেতে হঠাৎ করে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। দলবেঁধে ইঁদুর ধানগাছের গোড়া কেটে ফেলায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।

Advertisement

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইঁদুর দমনে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেমন কোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা সহায়তা পাচ্ছেন না তারা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আমন ধান চাষ না করায় এবার ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি বছর আট হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে সাড়ে চার মেট্রিক টন হিসেবে প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ধান গাছে থোড় আসা মূহুর্তে ইঁদুরের আক্রমণে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও ভাটা পড়বে। 

কৃষি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, এবছর ধান উৎপাদনের ওই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে সমগ্র উপজেলার চাহিদা মিটিয়েও অন্যত্র ধান বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ইঁদুরের আক্রমণে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যেতে বসেছে।

উপজেলার জামাইল গ্রামের কৃষক মো: নবী হোসেনসহ অনেকেই জানায়, বর্তমানে ধান ক্ষেতের বেশিরভাগ গাছ থোড় হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব গাছ থেকে ধানের শীষ বের হওয়ার কথা। ঠিক সে মুহূর্তে ইঁদুর ধানগাছের গোড়া কেটে ফেলে নষ্ট করছে। 

গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক মো: সোহরাব উদ্দিন জানান, ইঁদুরের আক্রমণে তার একটি ধানক্ষেতের বেশিরভাগ ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে।

জিনারী ইউনিয়নের পিপলা কান্দি গ্রামের কৃষক মো: রফিকুল ইসলাম জানান, ইঁদুর তার দুটি জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছে। ইঁদুরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা তদারকি বা পরামর্শ দিতে আসেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, বাজার থেকে নিজ উদ্যোগে বিষটোপ প্রয়োগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। তাই ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ধানের জমি রক্ষার দাবি জানান তিনি। 

তবে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ধান রোপণের আগেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে কিন্তু অনেকেই তা মানেন না। তাছাড়া আমন ধান রোপণের সময় কৃষকদের সারিবদ্ধভাবে চারা লাগানো ও প্রতি ১০ সারির পর একটি সারি ফাঁকা রাখার পরামর্শও দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘কৃষকেরা মনে করেন, সারি ফাঁকা রাখলে উৎপাদন কমে যাবে। তাদের ওই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আধুনিক পদ্ধতিতে সারিবদ্ধভাবে ধান না লাগালে ক্ষেত ঝোপঝাড়পূর্ণ ও অন্ধকার হয়ে পড়ে। ফলে ধান ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যায়। সারির মধ্যে ফাঁকা রাখা, পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার (ক্ষেতে ডালপালা বা কঞ্চি পুতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা) ও জমির আশপাশের আইলের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখলে ইঁদুরের উপদ্রব অনেকটাই কমে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইঁদুর দমনে ইয়ন কোম্পানির রোমা কেক অত্যন্ত কার্যকরী। ইঁদুর চালাক প্রাণী হওয়ায় কোনো খাবার খেয়ে দলের একটি সদস্য মারা গেলে অন্য ইঁদুর সাধারণত ওই বস্তু খায় না। কিন্তু রোমা কেক বা ল্যানির‍্যাট খেলে দুই থেকে তিন দিন পর ইঁদুর মারা যায়। এতে তারা কী খেয়ে অসুস্থ হয়েছে, তা ভুলে যায়। তাই ইঁদুর দমনে খুবই কার্যকরী ওষুধ এটি।’