
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ থেকে মহাসমারোহে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী মহল অননুমোদিত ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে বিক্রি করছে। বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে নদের তীর রক্ষা বাঁধসহ ফসলি জমি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে, অপরদিকে নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতু ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১৪০ বছর পুরোনো একটি রেল সেতু রয়েছে। সেতুটির দক্ষিণে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করছে। নতুন সেতু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুধকুমার নদের তীর রক্ষা বাঁধকে ঝুঁকিতে ফেলে তার পাশে ৩টি অননুমোদিত ড্রেজার বসিয়ে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির ভাই আলম হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার ও লেবু মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল অবাধে বালু তুলে বিক্রি করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন ভারী বৃষ্টিপাত হলে নদের তীর রক্ষা বাঁধ ধসে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা জালাল, আজিজুর রহমান ও রফিকুল বলেন, সোনাহাট সেতুর দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে পাউবো ব্লক ফেলে দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে। প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্বে তীর রক্ষা বাঁধ ও নির্মাণাধীন নতুন সেতুর অদূরে অননুমোদিত তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এতে তীর রক্ষা বাঁধের ব্লক স্থানচ্যুত হয়ে ধসে যেতে পারে। মহাসমারোহে বালু উত্তোলনের ফলে তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। ঝামেলার ভয়ে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
বালু উত্তোলনকারী আলম হোসেন জানান, কয়েক দিন যাবত ড্রেজার বন্ধ রয়েছে। ড্রেজার সরিয়ে নেয়া হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘পুকুরের তলদেশ সমান করতে একটি ড্রেজার চলছে।’
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘বালু উত্তোলন বন্ধ করা পুলিশের কাজ নয়। প্রশাসন চাইলে বালু উত্তোলন বন্ধে পুলিশি সহায়তা করা হবে।’
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘বালু উত্তোলন বন্ধ করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








