
ঠাকুরগাঁওয়ে মন্দিরে সনাতনী হিন্দুদের ওপর ইসকনপন্থী হিন্দুদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে জেলার ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শিকদার হাট এলাকায় শ্রী শ্রী রসিক রায় জিও মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মন্দির ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে প্রতিমা স্থাপন করতে আসে। সে সময় ইসকনভক্ত হিন্দুরা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে তাতে বাধা দেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সনাতনীরাও ইসকনভক্তদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নয়জন আহত হন।
আহতরা হলেন— ভূল্লী উপজেলার কচুবাড়ি গ্রামের রনজিত রায়, একই গ্রামের নুপুর রায়, পায়েল কৃষ্ণ ব্রমচারী, ভাতগাঁও গ্রামের বাসুদেব চন্দ্র ও অপু সরকার। তারা সকলেই সনাতনী।
এছাড়া ইসকন গ্রুপের আহতরা হলেন— আউলিয়াপুর উইনিয়নের ভাতগাঁও গ্রামের জিতেন্দ্র নাথ, চম্পা রাণী, দক্ষনাথ রায় ও সোহাগ রায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভূল্লী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিক জানান, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মন্দির এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমি নিজেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ঘটনাস্থলে রয়েছি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ওই মন্দিরে সনাতন ও ইস্কন ধর্মাবলম্বীদের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইসকনপন্থীদের হামলায় ফুলবাবু নামে একজন সনাতনী নিহত হন।
এরপর থেকে গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই মন্দিরে পূজার সময় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গত বছর মন্দিরটিতে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার পূজা শুরুর আগেই দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরাজমান এ পরিস্থিতিতে পূজা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








