১২ নম্বর উত্তর শিয়ালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর
১২ নম্বর উত্তর শিয়ালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর। নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাতে গিয়ে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়ছে।

Advertisement

ভান্ডারিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। পাশাপাশি ৯৭ জন সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে।

এছাড়া উপজেলার ১০০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকলেও এর মধ্যে ৪৮টি বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়গুলো সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও করতে হচ্ছে। বিভিন্ন দাফতরিক কাজে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে যেতে হয় তাদের। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

ভাণ্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের একইসাথে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ করতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা রয়েছে। ২০২৩ সালে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের দাবিতে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। চলতি বছরের ২ জুলাই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

উপজেলার ৬৮ নম্বর হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক মো: সাইদুর রহমান সুমন বলেন, মামলাটি ২ জুলাই নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে রায়ে কী বলা হয়েছে, তা আমরা এখনো জানতে পারিনি।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: বদিউজ্জামান বলেন, উপজেলার ৬২টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবিতে মামলা থাকায় প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হয়নি। এখন পদোন্নতির বিষয়ে কার্যক্রম চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকসহ বিভিন্ন শূন্য পদের তালিকা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ হবে বলে আশা করছি।

অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার বদিউজ্জামান জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে পাঠদানে ব্যহত হচ্ছে। কারণ সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে অফিসিয়াল কাজে তার ব্যস্ত থাকতে হয়। নতুন নিয়োগ পেলে অথবা প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে একটি মামলা আছে। মামলা নিস্পতি হলে এ সমস্যা সমাধান হবে।