
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা অভিভাবকরা দিয়ে থাকেন, পরে শিক্ষকরা দিয়ে থাকেন। একজন শিশু কেমন হবে তা নির্ভর করে অভিভাবকদের ওপর। অভিভাবকদের ওপর নির্ভর করে আমাদের ছেলে-মেয়েরা বড় হয়। এখন আমাদের সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের অভিভাবকদের মানসিকতারও পরিবর্তন হতে হবে। সমাজের পরিবর্তনের সাথে আমাদের সন্তানদের যুগের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করতে হবে।’
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেনীতে দৈনিক ফেনীর সময় ও আলোকিত ফেনী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আলোকিত ফেনী বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘আমি যদি ১৯৪৮-এ জন্মগ্রহণ করে ১৯৪০-এর মতো করে তাদের বড় করতে চাই, তাহলে হবে না। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের যুগের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন হতে হবে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তাদের বড় হতে দিতে হবে। তাদের যেন আমরা বাধা না দিয়ে থাকি। পাশাপাশি তারা যেন কিশোর গ্যাং, মাদক—এসবের সাথে না জড়িয়ে পড়ে, সেসব আমাদের দেখতে হবে।’
শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে অনুষ্ঠানে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, গাছের চারা ও সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়।
দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক ও আলোকিত ফেনী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক খন্দকার, জেলা জজ কোর্টের পিপি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত ও স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন।
আবৃত্তিকার সৈয়দ আশরাফুল হক আরমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ফেনী ডায়াবেটিক সমিতির সহ-সভাপতি আ ন ম আবদুর রহিম, জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন মামুন, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহা: আলমগীর চৌধুরী, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার ও জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যক্ষ এম মামুনুর রশিদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘আজকে যারা বৃত্তি পাচ্ছো, এ পাওয়াটা তোমাদের শেষ নয়। এটা তোমাদের শুরু। তোমাদের চেষ্টা করতে হবে। তোমরা শুধু পড়াশোনা করলে হবে না; পড়াশোনার পাশাপাশি তোমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হবে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া—এসব সম্পর্কে তোমাদের পড়াশোনা করতে হবে। তোমাদের জানতে হবে বেশি করে। তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে। যারা স্বপ্ন দেখতে জানে তারা সহজে সফল হয়। তোমরাও স্বপ্ন দেখবে।’
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








