
মাত্র ১০ কেজি সার পেতে সকাল থেকে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে ডিলারের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে কৃষকদের। টাকা দিয়েও চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।
কারো জমি পাঁচ কানি, কারো সাত কানি, আবার কারো আমন ধানের আবাদ ১৪ কানি পর্যন্ত। অথচ দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মিলছে মাত্র ১০ কেজি সার।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকানে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ভোর থেকেই সার নিতে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
কৃষক নুরুল আলম বলেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো সার পাইনি। যারা পেয়েছেন, তারা ১০ কেজি করে পেয়েছেন। আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, তা বলা মুশকিল।
কৃষকদের অভিযোগ, আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় জমিতে প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদার তুলনায় অল্প পরিমাণ সার পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
উখিয়া উপজেলা সার ডিলারদের সভাপতি মোহাম্মদ কবির বলেন, এই মৌসুমে পুরো উখিয়ায় নয় হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর বাইরে প্রচুর পরিমাণ পিএফ জায়গাতেও ধান চাষ হয়। সোনারপাড়াসহ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বিশাল সুপারি বাগান। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ করেন। এসব আবাদে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, তার পুরোটা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত মুনাফার আশায় সার মিয়ানমারে পাচার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, কৃষিজমি, বাগান ও আঙিনার চাষাবাদসহ বিভিন্ন খাতে বাড়তি চাহিদা এবং সার পাচারের অভিযোগ, সব মিলিয়ে উখিয়ায় বর্তমানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তবে কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দ্রুত সঙ্কট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার। তিনি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কৃষকরা ডিলারদের দোকান থেকে সার নিচ্ছেন। সার সঙ্কট নিরসনে আমরা কাজ করছি। কৃষকদের মধ্যে যারা একেবারেই সার পাননি, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার দেয়া হবে। আশা করছি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
কৃষকদের প্রশ্ন, আমন ধানের মৌসুমে যেখানে সময়মতো সার প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ১০ কেজি সার পেতেই যদি ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে বড় আকারের আবাদ করা কৃষকের প্রয়োজন মিটবে কিভাবে?
উখিয়ার কৃষকদের দাবি, সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বরাদ্দের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সার পাচার ও অবৈধ মজুতের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








