
সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এক বছর বয়সী সালমান। এনিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮১ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছে ২৯ জন। একই সময়ে নতুন করে ১৬৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ১২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮১ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১৬৪ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৫ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫৭ জন, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, বিশ্বনাথে দুইজন, বিয়ানীবাজারে একজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৮ জন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে একজন রয়েছেন।
নতুন রোগী ভর্তির পর বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৬৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এর মধ্যে, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪১ জন, ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে ২৭৯ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতাল ১২ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে তিনজন, পার্কভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে ছয়জন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, বিশ্বনাথে চারজন, বিয়ানীবাজারে পাঁচজন, গোলাপগঞ্জে ছয়জন, ফেঞ্চুগঞ্জে পাঁচজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭১ জন, ধর্মপাশায় একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মারা যাওয়া ১৮১ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৭১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জন মারা গেছেন। জেলার হিসাবে সিলেটে ৭৩, হবিগঞ্জে ২৭, মৌলভীবাজারে ১৫ এবং সুনামগঞ্জে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আগস্টে সিলেটে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে আরো ২৯ জনের মৃত্যু হওয়ায় এক মাসেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। একই সময়ে হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগীর চাপও অব্যাহত রয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবার সিলেটে এক শিশুর মৃত্যু ও নতুন করে ২০১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








