সংঘর্ষ
সংঘর্ষে আহতরা। নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদককারবার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

Advertisement

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ইসদাইর কাপুইরাপট্টি এলাকায় যুবদল কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে  নাসির নামে একজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত নাসিরকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইসদাইর কাপুইরাপট্টি এলাকায় আইসক্রিম ফ্যাক্টরির সামনের মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে মাদককারবারের একটি বড় স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, এতদিন কথিত মাদককারবারি ‘পেটকাটা রকি’র নিয়ন্ত্রণে ছিল ওই স্পট। সম্প্রতি স্পটটির নিয়ন্ত্রণ নিতে ‘উৎস’ পক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরই জেরে সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রকি ও উৎস একসময় একসাথে মাদকের কারবার করত বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অতীতে তাদের একাধিকবার একসাথে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে বর্তমানে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে এবং মাদককারবারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই বিরোধ বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, ইসদাইর, গাবতলী, টাগারের পাড়, বৃহত্তর মাসদাইরসহ ফতুল্লার বিস্তীর্ণ এলাকায় মাদককারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই চলে আসছে। রকি ও উৎসের বিরোধও সেই আধিপত্য বিস্তারের ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে একটি জনবহুল এলাকায় মাদক স্পটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ও একজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটলেও এসব মাদককারবারের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না।

ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং মাদককারবারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না—তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করে এলাকাবাসী।

ফতুল্লা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসার চেষ্টা করে।