
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ কোর্সের পাঠদান আরো কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে নামছে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এ লক্ষ্যে ৯০০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত করা হবে ৯০ জন কোর ট্রেইনার। পর্যায়ক্রমে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষককে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণসামগ্রী ভ্যালিডেশন শেষে এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রোলআউটের প্রস্তুতি চলছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের রোলআউট পরিকল্পনা, ক্যালেন্ডার ও সময়সূচি, প্রশিক্ষক নির্বাচন, বাজেট, প্রশিক্ষণ এলাকা নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়। একইসাথে ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি মাস্টার ট্রেইনার ও ইন-হাউজ টিচার ট্রেইনিং’-এর কনসেপ্ট নোট নিয়েও আলোচনা করা হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ব্লেন্ডেড লার্নিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। কোর ও মাস্টার ট্রেইনারদের প্রথমে অনলাইন কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। এরপর তাদের পাঁচ দিনব্যাপী সরাসরি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। এ পদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা পরবর্তী ধাপে নিজ নিজ অঞ্চলে অন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
ইতোমধ্যে অনার্স প্রথম বর্ষের জন্য ৯০ জন কোর ট্রেইনার ও ৮৪০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। ইন-হাউজ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো দুই হাজার ৫০০ শিক্ষককে এ কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় ইন-হাউজ প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য বাজেট, কোর ও মাস্টার ট্রেইনারদের চূড়ান্ত তালিকা এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সহজ ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন জোন ও ম্যাপিং এলাকা নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ কোর্সের পাঠদানকে আরো কার্যকর করতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ প্রশিক্ষণ কলেজ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হবে। এতে শিক্ষকরা প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে আরো দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অ্যাপ্লাইড আইসিটির ব্যবহারিক দিকগুলো ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ফাহমিদা শবনম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, স্নাতকপূর্ব শিক্ষাবিষয়ক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. আশেক কবির চৌধুরী, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ দফতরের পরিচালক সালমা পারভীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।









