
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নে সৎ বাবা কর্তৃক কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। সৎ বাবার বিরুদ্ধে করা ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রকৃত অপরাধী হিসেবে প্রতিবেশী পান্না শরীফ (৭০) নামে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মা।
ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাষ্যমতে, ঘটনার নয় দিন আগে মায়ের ওপর অভিমান করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিল সে। এ সময় প্রতিবেশী পান্না শরীফ তাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং কাউকে না জানানোর উদ্দেশ্যে কিশোরীকে তার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলের ঘরে টানা নয় দিন আটকে রাখা হয়। পান্না শরীফ তার প্রতিবন্ধী ছেলের সাথে কিশোরীকে বিয়ে দেয়ার কথা বলে তাকে জিম্মি করে রাখে এবং ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে মেরে বস্তাবন্দী করে নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়।
কিশোরী আরো জানায়, পান্না শরীফ ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখায়। কিশোরীকে বাধ্য করা হয় যেন সে পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছে নিজ সৎ বাবা ও প্রতিবেশী শহিদুল ও ইব্রাহিমের নাম ধর্ষণের সাথে জড়িত হিসেবে স্বীকার করে। এরপর পান্না শরীফ নিজেই ঘটনাটি ভিন্নখাতে মোড় নিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনকে অবহিত করে। অথচ ভিকটিম ও তার পরিবারের দাবি, তারা পূর্বে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
ভিকটিমের মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার স্বামী একজন পরহেজগার ও নামাজি মানুষ। প্রথম থেকেই তার বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অভিযোগ আমরা মেনে নিতে পারিনি। ভয়ে মেয়ে প্রথমে কিছু না বললেও পরে বিস্তারিত সব খুলে বলে। মেয়ে নিখোঁজ থাকার পর আমরা পান্না শরীফের বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলেও তারা মেয়ে সেখানে থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। তিনি অবিলম্বে নির্দোষ স্বামী ও অন্য নিরাপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি এবং মূল অভিযুক্ত পান্না শরীফকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত পান্না শরীফের চরিত্র আগে থেকেই বিতর্কিত। তার প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য এর আগেও দু’টি বিয়ে করানো হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, পান্না শরীফ কর্তৃক নিপীড়নের শিকার হয়ে পূর্বের দুই স্ত্রীই বাধ্য হয়ে ঘর ছাড়েন। এলাকার যুবসমাজ ও স্থানীয় মুরব্বিরা দ্রুত পান্না শরীফকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পান্না শরীফ বলেন, আমি গাছের কাজ করার সময় মেয়েটিকে কাঁদতে দেখে কারণ জানতে চাই। সে জানায়, বাবা মারধর করায় সে আর ঘরে ফিরবে না। মানবিক কারণে আমি তাকে ঘরে নিয়ে আসি। সে আমার এখানে তিন দিন থাকার পর হঠাৎ পালিয়ে যায়। পরে তাকে খুঁজে বের করে মা-বাবার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া জানান, এখনো নতুন কোনো কিছুর আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার দিন যা পেয়েছি তৎক্ষনাৎ আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।








