প্রবাসী ও কওমি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সাক্ষাৎকালে বাউবি ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। নয়া দিগন্ত

প্রবাসী ও কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৬ষ্ঠ সমাবর্তন আগামী ২২ মার্চ ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে। অনাড়ম্বর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে বাউবি ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান সমাবর্তনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পরে সমাবর্তনের তারিখ ও সময় নির্ধারণে রাষ্ট্রপতির সম্মতি চাওয়া হলে তিনি ২২ মার্চ সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি দেন। 

সাক্ষাৎকালে বাউবি ভিসি বাউবির বর্তমান অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষা অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত, সাশ্রয়ী, কর্মমুখী ও জীবনব্যাপী শিক্ষা পৌঁছে দিতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছেও সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের জন্য (নিশি-২) কার্যক্রমের আওতায় এসএসসি, এইচএসসি, বিএ ও বিএসএসসহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য (নিশি-১) কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানান ভিসি।

ভবিষ্যতে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সময়োপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। একইসাথে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা এবং আলিয়া মাদরাসা থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার সুযোগ দিতে (নিশি-৩) কার্যক্রম চালুর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি বাউবির শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার, গুণগত মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। ভিসি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাউবি ভিসি। প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: সিরাজুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি এম আহমেদ হুসেইন ও প্রোটোকল অফিসার শেখ সাদেকুর রহমান।