
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩৯২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার কারণে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ মানুষ ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় একাকার রাস্তা। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও জমে থাকে পানি। মোটরসাইকেল কিংবা ভ্যান-রিকশা নিয়ে চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও কঠিন। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কের অধিকাংশই কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্যমতে, উপজেলায় বিভিন্ন রুটে গেজেটভুক্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৬৫৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২৩১ কিলোমিটার সড়ক ইতোমধ্যে পাকাকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পল্লী উন্নয়ন অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় আরো ৩০ কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণ কাজ চলমান রয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গেজেটভুক্ত সড়কের বাইরে উপজেলায় আরো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এসব সড়ক এখনো গেজেটভুক্ত বা সংশ্লিষ্ট দফতরের নথিভুক্ত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে দুর্ভোগ পোহালেও এসব রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিশেষ করে ৪ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের কয়েকটি সড়কের অবস্থা এখন বেহাল। এরমধ্যে গোপালপুর ছকু হাজির বাড়ি থেকে পূর্ব দিকে বাঁধের মাথায় হায়দারের দোকান পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার ও খোর্দ্দ রসুলপুর মোংলা বন্দর থেকে উত্তর দিকে কফিল মুন্সীর বাড়ি ঘেঁষে হামিদ মন্ডলের ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এবং পাতিল্যাকুড়ার হামেদার মোড় থেকে উত্তরে খোকা সরদারের বাড়ি ঘেঁষে চকদাড়িয়া উত্তরপাড়ার আকবর মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কের নাজুক পরিস্থিতি।
স্থানীয় তৌহিদুল ইসলামসহ একাধিক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাদায় আটকে যায় ভ্যান ও অটোরিকশা। অনেক সময় মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল নিয়ে চলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। রাস্তা খারাপ থাকায় অনেক সময় পণ্য সময়মতো বাজারে নেয়াও সম্ভব হয় না।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—কাঁচা সড়কগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কবে পাকা হবে? যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এসব সড়ক দ্রুত পাকাকরণের দাবি তাদের। কাদাময় এইসব পথই প্রতিদিনের বাস্তবতা সাদুল্লাপুরের লাখো মানুষের। এখন তাদের প্রশ্ন একটাই উন্নয়নের এই সময়ে আর কতদিন কাঁচা রাস্তায় চলতে হবে?
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তাগুলো পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এসব রাস্তা পাকা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে। ’
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো: মেনাজ জানান, উপজেলার কাঁচা রাস্তাগুলো বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পাকাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।








