
তিন মাসের নাতিকে কোলে নিয়ে ছেলে সোহাগ মিঝি (২৮) হত্যার বিচার চেয়েছেন মা শাহিনুর বেগম। তার অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাত মাস পার হলেও তিনি ছেলের হত্যার বিচার পাননি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার একটি পত্রিকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সোহাগকে হত্যার সময় তার স্ত্রী ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এর মধ্যে তাদের একটি ছেলেসন্তান জন্ম নিয়েছে। শিশুটির বয়স এখন তিন মাস। বাবাকে দেখার আগেই বাবাকে হারানো সেই শিশুকে কোলে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ছেলের হত্যার বিচার চাইলেন মা শাহিনুর বেগম।
নিহত সোহাগ রায়পুর উপজেলার ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের লালগাজী মিঝি বাড়ির তাজুল ইসলাম মিঝির ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত-আট মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সোহাগ। দিনভর ভোটার আনা-নেয়ার পর সন্ধ্যার দিকে মোবাইলফোনে মাকে রাতে খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেন। এরপর তার সাথে আর যোগাযোগ করা যায়নি। রাতে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে রায়পুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
দুই দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পাটোয়ারী রাস্তার মাথায় রেয়ার মডেল দাখিল মাদরাসার সামনে একটি জমিতে সেচ দিতে গিয়ে এক কৃষক বালুর নিচে মানুষের পায়ের তিনটি আঙুল দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু সরিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা লাশটি সোহাগের বলে শনাক্ত করেন।
সোহাগের মা শাহিনুর বেগম ও বাবা তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সোহাগকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ বালুর নিচে চাপা দেয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘটনায় মুরাদ, আরাফাত, শাহিন ও রাব্বিসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তারা জামিনে বের হন। জামিনে বের হওয়ার পর তাদের লোকজন পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শাহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, মুরাদ, আরাফাত, শাহিন ও রাব্বির বিচার চাই। আমার ছেলের একটি ছেলেসন্তান আছে। এই শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমি জীবিত থাকতে আমার ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু তারেক বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।’








