নদী ভাঙন
আকস্মিক নদী ভাঙন। নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের মধ্য সোনাকুর গ্রামের পালপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে নদীর পশ্চিম তীরে এই ভাঙন শুরু হয়। 

মুহূর্তের মধ্যেই একটি বসতঘর ও বিদ্যুতের লাইন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকালে হঠাৎ করে নদীর ভাঙন শুরু হলে আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান বাসিন্দারা। এ সময় স্থানীয় মনা মালোর বসতঘরটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের কারণে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইনও নদীতে পড়ে যায়।

অমল পাল, পরিমল পাল, তৃপ্তি পাল, রবি মালো, বিপুল মালো, সুজন মালো, সঞ্জীব মালো ও রমেন পালসহ অন্তত ১০ থেকে ১২জনের বসতবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। 

স্থানীয়রা জানায়, এর আগেও এ এলাকায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ২০ থেকে ২২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অমল পাল ও রবি মালো বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। প্রাণ বাঁচাতে কোনো রকমে ঘর থেকে বের হয়ে আসি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভাঙনে আমাদের সর্বস্ব নদীতে চলে গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙনকবলিত ও গৃহহারা পরিবারগুলোর অনেকেই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছেন। শেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন এমন দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। 

দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।

ভাঙনের খবর পেয়ে আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার জেলা পর্যায়ের একটি সভায় থাকায় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেছেন। ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।