সার, অভিযান, জব্দ
অভিযান চালিয়ে ৭২৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭২৩ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ও শনিবার উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর শহরের দত্তনগর সড়কে অবস্থিত শান্তনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ লাইসেন্স ছাড়াই দোকানে বাড়তি দামে বিক্রির উদ্দেশে সরকারি রাসায়নিক সার মজুদ করেন। খবর পেয়ে জীবননগরের ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা এ্যানির নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দোকানের মালিক আজাদ পালিয়ে যান। পরে দোকান থেকে ৪০৩ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসাদাহ বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালায়। দোকান মালিক আব্দুল খালেকের উপস্থিতিতে ৩২০ বস্তা ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার জব্দ করা হয়। পরে তার তিনটি দোকান সিলগালা করে দেয়া হয়।

জীবননগর থানার ওসি জানান, সার ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে জীবননগর থানায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

ইউএনও সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি রোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। কেউ অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সঙ্কট বা অবৈধ মজুদের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘যশোরের নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে রাসায়নিক সার এনে মজুদ করছিল, যাতে ভুট্টা মৌসুমে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে চড়া দামে বিক্রি করা যায়। বর্তমানে কৃষি মৌসুম চলায় সারের চাহিদা অনেক বেশি। এ সময় অবৈধ মজুদ সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে প্রকৃত কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব কর্মকাণ্ড রোধে ভবিষ্যতে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’