
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে একটি অটো গ্যারেজ থেকে লুট হওয়া ৯৫টি পুরোনো ব্যাটারি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আনিছুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ব্যাটারি উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন পটুয়াখালীর বাউফলের ওলিপুরা গ্রামের মো: মাসুদ (৩৩), মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের দিপুপুরা গ্রামের আছলাম শেখ (৩৮) ও টঙ্গিবাড়ীর পূর্ব আউটশাহী গ্রামের সজিব ফকির (২৯)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানান, গত শনিবার রাতে উপজেলার মেদিনীমণ্ডলের মাওয়া পুরাতন ঘাট এলাকায় সুরেশ্বর ফারুক নামে একটি অটো গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজন ডাকাতদল গ্যারেজের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে পাহারাদার মাসুমের হাত-পা বেঁধে মারধর করে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর গ্যারেজে থাকা ২২টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ৯৫টি পুরাতন ব্যাটারি ও ২২টি চার্জার নিয়ে একটি পিকআপভ্যানে লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতু (উত্তর) থানায় মামলা করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেয়া তথ্যমতে লুট হওয়া ৯৫টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানান তিনি সিরাজদিখানের মালখানগর চৌরাস্তার আছলাম সাইকেল স্টোরের মালিক আছলাম শেখের কাছ থেকে ছয় লাখ ৭৪ হাজার টাকায় ব্যাটারিগুলো কিনেছেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে আছলামকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছলাম পুলিশকে জানান, টঙ্গিবাড়ীর সজিব ফকির ও তার এক বন্ধু ব্যাটারিগুলো বিক্রির জন্য তার কাছে নিয়ে আসেন। তাদের উপস্থিতিতে আছলাম সাইকেল স্টোরের ক্যাশ মেমো ব্যবহার করে ব্যাটারিগুলো মাসুদের কাছে বিক্রি করা হয়।
এরপর রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে টঙ্গিবাড়ীর দক্ষিণ বেতকা নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজিবকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজিব ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি সৈয়দ মো: আক্তার হোসেন।








