অপ্রতীম
নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন নিহত অপ্রতীমের বাবা-মা নয়া দিগন্ত

ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার পর নিজের ও স্বামীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন  কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। একই সাথে অপ্রতিমের হত্যার ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাতে কোটবাড়ি গন্ধমতিতে সাংবাদিকদের কাছে এসব উদ্বেগের কথা বলেন ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে তো মরেই গেছে। খুনিদের শাস্তি হলেও আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু তারা যখন পাঁচ-দশ বছর পর সংশোধনাগার থেকে বের হবে, তখন আমি ও আমার স্বামী কি নিরাপদ থাকব?’

অপ্রতীম হত্যার ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অপ্রতিমের জন্য যে ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করছে, তারাও কি নিরাপদ? যারা তাদের হয়ে লড়ছে, তারা কি তাদের ইন্ধন দেবে না? এরপর আর কত মায়ের বুক খালি হবে?’

অপ্রতীমকে হত্যার পেছনে আইফোনের প্রতি লোভ, অর্থ হাতিয়ে নেয়া কিংবা অপহরণের পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তার মা। তিনি বলেন, ‘এমনও হতে পারে, শুধু আইফোনটার জন্যই তাকে মেরে ফেলেছে। আমার পরিবার বড়, আমরা ভাইবোন অনেকজন। অপ্রতিম ঈদে সালামি পেত, বিভিন্ন সময় অনেক কিছু পেত। তাদের মধ্যে এ ধরনের লোভও থাকতে পারে।’

তার ধারণা, অপ্রতীমের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন জিনিস নেয়া কিংবা একপর্যায়ে তাকে অপহরণ করে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে।

মাদকবিরোধী অভিযানের কারণেও অপ্রতিম টার্গেটের শিকার হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন ড. নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘তুহিন গ্যাংয়ের কেউ আমার অভিযানে ধরা পড়েছিল। যারা তাদের মাদক সরবরাহ করত, তাদেরও আমার ওপর ক্ষোভ থাকতে পারে। কারণ তখন বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছিল। এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।