
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুল কর্তৃক মুক্তাগাছা থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। থানায় ঢুকে ওসির কক্ষে প্রবেশ করা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সাথে বাগ্বিতণ্ডার পর দলবল নিয়ে থানা পুলিশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুরের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই মামলা হয়।
এ ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ বাদী হয়ে টুটুলসহ ১১ জন ও অজ্ঞাত পরিচয় ৩০-৪০ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মুক্তাগাছা থানায় মামলা রুজু করে।
উল্লেখ, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম একটি হত্যা মামলার তদন্ত বিষয়ে সহকর্মীদের সাথে জরুরি বৈঠকে করছিলেন। এ সময় মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক আরিফ রব্বানী টুটুল কয়েকজনকে নিয়ে ওসির রুমে ঢুকতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন।
এ সময় টুটুল পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে থানা থেকে বের হয়ে যায়। পরে টুটুলের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে থানার প্রধান ফটক ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর করে। ফটকের সাথে ট্রাফিক বক্সে আঘাত করে কয়েকটি কাচ ভেঙে ফেলা হয় এবং কয়েকটি রড বাঁকা করে ফেলা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা গেটের কাছে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, আরিফ রব্বানী টুটুল থানায় এসে আমার কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য একটি হত্যা মামলার তদন্ত বিষয়ে জরুরি পরামর্শ চলছে বলে তাকে একটু অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু সে এ সময় পুলিশ সদস্যের সাথে তর্কে জড়ায় এবং পরে দলবল নিয়ে থানার প্রধান ফটকের সাথে থাকা ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর চালায়।
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে আরিফ রব্বানী টুটুলসহ ১১ জন ও অজ্ঞাত পরিচয় ৩০-৪০ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মুক্তাগাছা থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে।
এ বিষয়ে আরিফ রব্বানী টুটুলের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে, মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, আরিফ রব্বানীর ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে আমরা বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তবে থানায় মামলার বিষয়ে আমি জানি না।







