মুক্তাগাছা থানা, ভাঙচুর করা ট্রাফিক বক্স, বিএনপি নেতা আরিফ রব্বানী টুটুল
মুক্তাগাছা থানা, ভাঙচুর করা ট্রাফিক বক্স, বিএনপি নেতা আরিফ রব্বানী টুটুল নয়া দিগন্ত

ওসির কক্ষে প্রবেশ করতে না পারার ক্ষোভে দলবল নিয়ে মুক্তাগাছা থানার প্রধান ফটক ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক আরিফ রব্বানী টুটুলের বিরুদ্ধে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুক্তাগাছা থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম একটি হত্যা মামলার তদন্তের বিষয়ে সহকর্মীদের সাথে জরুরি বৈঠক করছিলেন। এ সময় মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক আরিফ রব্বানী টুটুল কয়েকজনকে নিয়ে ওসির রুমে ঢুকতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন।

এ সময় টুটুল পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে থানা থেকে বের হয়ে যান। পরে টুটুলের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে থানার প্রধান ফটক ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর করে। ফটকের সাথে ট্রাফিক বক্সে আঘাত করে কয়েকটি কাচ ভেঙে ফেলা হয় এবং কয়েকটি রড বাঁকা করে ফেলে তারা। পরে পুলিশ সদস্যরা গেটের কাছে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, আরিফ রব্বানী টুটুল থানায় এসে আমার কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য একটি হত্যা মামলার তদন্ত বিষয়ে জরুরি পরামর্শ চলছে বলে তাকে একটু অপেক্ষা করতে বলে। কিন্তু সে এ সময় পুলিশ সদস্যের সাথে তর্কে জড়ায় এবং পরে দলবল নিয়ে থানার প্রধান ফটকের সাথে থাকা ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর চালায়।

তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং থানায় হামলার বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ভাঙচুরের কারণ ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা আরিফ রব্বানীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানান, আরিফ রব্বানী থানায় কোনো অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। ওসির কক্ষে ঢোকার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কিছু লোক থানায় এসেছিলেন। থানায় ভাঙচুরের ঘটনা তিনি নিজে দেখেননি।