ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ, দুশ্চিন্তায় জেলেরা
সাগরে ইলিশ নাই। অলস পড়ে আছে মাছ ধরার ট্রলারগুলো । নয়া দিগন্ত

 রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর জেলেদের জীবিকার স্বপ্নে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ। প্রতি মৌসুমেই বুকভরা আশা নিয়ে নদী ও সাগরে পাড়ি জমান তারা। ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হলেও জেলেদের আশা-আজ না হলেও কাল হয়তো জালে ঝুলবে কাক্সিক্ষত রুপালি ইলিশ। এ প্রত্যাশাতেই বারবার ট্রলার নিয়ে জলে নামেন তারা। তবে ভরা মৌসুমেও কাক্সিক্ষত মাছ না মেলায় জেলেরা এখন হতাশায়।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাগরে লঘুচাপ বা বৈরী আবহাওয়া তৈরি হলেই উত্তাল হয়ে ওঠে সমুদ্র। তখন নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত তীরে ফিরতে হয়। জুলাই ও আগস্ট মাসেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাঙ্গাবালীর হাজারো জেলেকে খালি হাতে ঘাটে ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে মাছ পাওয়ার অনিশ্চয়তা আর আবহাওয়ার ঝুঁঁকি-এ দুইয়ের কবলে পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়ছেন তারা।
মাছ ধরতে যাওয়ার আগে অধিকাংশ জেলেকে দাদন বা ধারদেনা করে জ্বালানি, বরফ, খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে হয়। কাক্সিক্ষত মাছ না মিললে সে বিপুল দেনা পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সমুদ্রগামী জেলে সামিন মাঝি বলেন, এ সময়টাতে আমরা আশা করি সাগরে ভালো ইলিশ পাবো। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও মাছ মিলছে না। সাগরে গেলে ট্রলারের জ্বালানি ও বরফ বাবদ প্রচুর খরচ হয়। মাছ না পেলে দেনায় ডুবে যেতে হয়। আবহাওয়া খারাপ হলে যেমন সাগরে যাওয়া যায় না, তেমনি আবহাওয়া ভালো থাকলেও এখন জালে ইলিশ উঠছে না। পরিবার নিয়ে কী করব, বুঝতে পারছি না।
উপকূলের মাছের আড়তগুলোতেও এখন মন্দা ভাব। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আবু তালেব খলিফা জানান, জেলেরা মাছ না পেলে আড়তদারদের ব্যবসা থমকে যায়। আগে মৌসুমে ট্রলার বোঝাই ইলিশ বেচাকেনায় ব্যস্ততা থাকত। এখন ঘাটে মাছ নেই। ফলে জেলেদের লোকসানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পুঁজিও আটকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: জহিরুন্নবী বলেন, ইলিশের উৎপাদন ও প্রজননের সাথে নদী-সাগরের পরিবেশ, পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতসহ নানা প্রাকৃতিক বিষয় জড়িত। ইলিশের প্রজনন ও অভয়াশ্রম সংরক্ষণ এবং জাটকা নিধন বন্ধে মৎস্য বিভাগের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। 
ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ ব্যাহত হওয়া প্রসঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ইলিশ কমে যাওয়ার পেছনে এর পুরো জীবনচক্র ও অভিবাসনপথের সঙ্কট দায়ী। নদী ও সাগরে অবৈধ ও ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহারের কারণে প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই ইলিশ ধরা পড়ছে। অন্য দিকে নদীর নাব্যতা হ্রাস, ডুবোচর, নদী দখল ও দূষণ ইলিশের প্রজনন পরিবেশ ধ্বংস করছে। মা ইলিশ ও জাটকা নিধন বন্ধ না হলে ভবিষ্যতের ইলিশের মজুদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

Advertisement