
গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অভিযানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, সরকারবিরোধী অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও উসকানিমূলক কার্যক্রমের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া, পূবাইল থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটকের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার আসামিদের আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জিএমপির মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শওকত কবির স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার দুপুর ২টা থেকে রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরের বিভিন্ন থানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। গ্রেফতার সবাইকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, কাশিমপুর থানার একটি মামলায় সারদাগঞ্জ পুকুরপাড় এলাকার রবিন মোল্যা, রাশেদুল হাসান বাবু, সাব্বির হোসেন উৎসব, রাসেল মিয়া ও দিনাজপুরের মিঠুন চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। গাছা থানার মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আলী হোসেন ও আবু রায়হান তুহিন মৃধা, বাসন থানার মামলায় শাকিল খান, কোনাবাড়ী থানার মামলায় শাকিল সিকদার, পূবাইল থানার মামলায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেন এবং টঙ্গী পশ্চিম থানার মামলায় সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রোববার পূবাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও উপদেষ্টা অমূল্য চন্দ্র দাসকে আটক করে ডিবির দক্ষিণ বিভাগের একটি বিশেষ দল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি পূবাইল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন।
ডিবি সূত্র জানায়, একটি মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অমূল্যকে আটক করে তার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছিল। তবে কোন মামলায় বা কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো: তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘অমূল্য চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো: সাহেব আলী পাঠান বলেন, ‘অমূল্য চন্দ্র দাসকে ডিবি আটক করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
স্থানীয় বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আরো কয়েকজন নেতা বর্তমানে এমপি ফজলুল হক মিলনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রয়েছেন। ফলে একদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গ্রেফতারে অভিযান, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতাকে আটকের পর সংসদ সদস্যের ফোন এবং পরে মুচলেকা নিয়ে মুক্তির ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।’
পুলিশ কমিশনার জানান, ‘অমূল্যকে আটকের পর গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন ফোন করে বলেন, অমূল্য বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সাথ সম্পৃক্ত এবং সর্বশেষ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। তিনি অমূল্যকে নিজের লোক বলেও উল্লেখ করেন।’
তিনি জানান, মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অমূল্যকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সুপারিশের বিষয়ে এমপি ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘পূজামণ্ডপের একটি মিটিং থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা বিরূপ কিছু পাওয়া যায়নি। তাই আমি বলেছি, আইন অনুযায়ী যেটা করার সেটাই করতে। পুলিশ হয়ত সেটাই করেছে।’








