
মো: কামাল হোসেন খান বেতাগী (বরগুনা)
সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতে বরগুনার বেতাগী পৌর শহরের টাউনব্রিজ যেন পরিণত হয় ‘মিনি হাটে’। সেতুর ওপর বসে ভাসমান দোকান, চলে পণ্য কেনাবেচা। এর সাথে যোগ হয় ইজিবাইক, অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ। ফলে হাটের দিনগুলোতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে দোকান উচ্ছেদ করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই ফের আগের অবস্থায় ফিরে আসে। বসে দোকানপাট, সৃষ্টি হয় যানজট, সেই সাথে বড়ে জনগণের ভোগান্তি।
সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতি বুধ ও শনিবার বেতাগী পৌর শহরে সাপ্তাহিক হাট বসে। এ দুই দিন টাউনব্রিজের উপর কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের ভিড়ের মধ্যেই সেতু দিয়ে চলাচল করে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান, মাহিন্দ্র, নসিমন ও অ্যাম্বুলেন্স। ফলে সেতুতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট এবং পথচারীদের জটলা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের দিনে অতিরিক্ত ইজিবাইক ও অটোরিকশার চাপের পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহনের অবাধ চলাচলে পরিস্থিতি নিতান্তই জটিল হয়ে ওঠে। এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় চালকরা সেতুর দুই পাশে ও সেতুর ঢালকে স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করেন।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে সেতুর উপর থেকে দোকানপাট উচ্ছেদ করে। কিন্তু কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দুই-এক দিনের মধ্যেই আবার দোকান বসে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত নজরদারি ছাড়া এ সেতুতে হাট বসানো বন্ধ করা সম্ভব নয়।
পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রিকশাচালক আলাম ফরাজী বলেন, হাটের দিনে ইজিবাইক-অটোরিকশার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল থেকে নসিমন, করিমন ও পিকআপে করে বিভিন্ন মালামাল শহরে ঢোকে। এতে যানজট বেড়ে যায়।
গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বাজার করতে আসা বেতাগী সরকারি কলেজপাড়ার জামাল হোসেন বলেন, ‘বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে আছি। কোনো কোনো হাটের দিনে এক ঘণ্টা পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকতে হয়।’
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহা: সাদ্দাম হোসেন বলেন, মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় হাটের দিনে টাউনব্রিজে শাকসবজি ও ভাসমান ফলের দোকান বা কোনো ধরনের পণ্য নিয়ে ফেরিওয়ালাদের বসতে দেয়া হবে না। সেতুর উপর যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, প্রশাসন সে দিকে কড়া নজর রাখছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








