বৃক্ষরোপণ
সিলেটের ধনুকান্দি মাদরাসায় জালালাবাদ রোটারি ক্লাবের বৃক্ষরোপণ । নয়া দিগন্ত

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ নিয়ে সিলেটের ধনুকান্দি মাদরাসায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়।

রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যান রোটারিয়ান শাহ আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিডিজি কর্নেল (অব:) এম আতাউর রহমান পীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধনুকান্দি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা নিজাম উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিডিজি কর্নেল (অব:) এম আতাউর রহমান পীর বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচির লক্ষও দেশের পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নকে এগিয়ে নেয়া। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি গাছ লাগানো শুধু একটি চারা মাটিতে স্থাপন করা নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত দায়িত্ব। তাই বৃক্ষরোপণের পর গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হতে পারে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছ তুলে দিয়ে এবং তাদের পরিচর্যার দায়িত্বের সাথে যুক্ত করে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বৃক্ষরোপণ একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।’

সভাপতির বক্তব্যে রোটারিয়ান শাহ আশিকুর রহমান বলেন, ‘রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বৃক্ষরোপণ একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, যার সুফল বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ভোগ করবে।’ 

তিনি বলেন, ‘শুধু কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা গাছগুলো বাঁচিয়ে তোলাই হতে হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।’ এ জন্য মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা জরুরি। মাদরাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষের সংখ্যা বাড়লে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর, ছায়াময় ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হবে। রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কাজ করাই রোটারির অন্যতম লক্ষ্য। পরিবেশ সংরক্ষণও মানবকল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব।’ 

এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভা শেষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের সদস্য, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।