
বিশ্ববাজারে ওয়ালটনের মতো বাংলাদেশী ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি আরো শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ওয়ালটন বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্পখাতে চমৎকার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি একদিকে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে, অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পাঁচ তারকা হোটেল ‘দ্য সোলটি’-তে আয়োজিত বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের শীর্ষ বিক্রয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজার বিশেষ অনুষ্ঠান ‘তুষার যাত্রা’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম, নেপালের স্বনামধন্য থাপা বিজনেস গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রনীল থাপা, পরিচালক প্রনিমেশ থাপাসহ ওয়ালটনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রদূত মো: শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওয়ালটন বাংলাদেশে হাই-টেক খাতে চমৎকার কাজ করছে। ওয়ালটনের উৎপাদিত হাই-টেক পণ্যের গুণগতমান অত্যন্ত উন্নত। এসব পণ্য নিয়ে বিশ্ববাজারে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সাথে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে ওয়ালটন। এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত গর্বের।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশে উন্নতমানের হাই-টেক পণ্য উৎপাদনের ফলে এ খাতে আমদানি নির্ভরতা কমছে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। একইসাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রযুক্তিপণ্য রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে ওয়ালটন। ওয়ালটনের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরাও ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবেন।’
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, ‘নেপাল ওয়ালটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। বাংলাদেশের মতো নেপালের মানুষের কাছেও আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিপণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দিতে কাজ করছে ওয়ালটন। স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে নেপালের বাজারে ওয়ালটনের কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘ওয়ালটন এখন শুধু বাংলাদেশের একটি ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড নয়; আমাদের লক্ষ্য বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবন, অত্যাধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। নেপালে আমাদের এই অগ্রযাত্রায় থাপা বিজনেস গ্রুপসহ সকল ব্যবসায়িক অংশীদারের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নেপালের বাজারে ওয়ালটনের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করা হবে।’
থাপা বিজনেস গ্রুপের পরিচালক প্রনিমেশ থাপা বলেন, ‘আট বছরেরও বেশি সময় ধরে নেপালে ওয়ালটনের অগ্রযাত্রার অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। উদ্ভাবনী ও মানসম্পন্ন পণ্যের মাধ্যমে নেপালজুড়ে ওয়ালটনের উপস্থিতি আরো বিস্তৃত করতে থাপা বিজনেস গ্রুপ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গ্রাহকদের উন্নত সেবা দেয়া এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাথে নিয়ে ওয়ালটনকে নেপালের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তিপণ্য ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করে যাব।’
ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো: রায়হান তার বক্তব্যে আধুনিক বিপণন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ওয়ালটন প্লাজার কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মফিজুর রহমান জাকির ও ওয়ালটন প্লাজার হেড অব সেলস এম এম নাজমুল হাসান।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও চিত্রনায়ক আমিন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নেপাল ট্যুর ভিডিও প্রদর্শন, র্যাফেল ড্র ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।







