
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বাস থেকে নামতে গিয়ে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মনীষার আহত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তসহ সাত দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।
আহত মনীষা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে কয়েকজন ছাত্রী শহরের মুক্তমঞ্চ এলাকায় নামছিলেন। এ সময় মনীষা বাস থেকে নামার আগেই চালক বাসটি চালিয়ে দেন। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাবনা এসোর্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে সমাজকর্ম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: মোশাররফ পারভেজ বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মনীষার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয়ার দাবি জানাই। পাশাপাশি আমাদের অন্য দাবিও বাস্তবায়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।’
একই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: মুহুস্তাসিন নাদির বলেন, ‘মনীষার দুর্ঘটনার ঘটনায় অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে এ ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে আমাদের চলমান আন্দোলন আরো কঠোর ও বেগবান হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে আহত মনীষার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করা, দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী বাসচালকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া, ওই চালককে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাস চালানোর দায়িত্ব না দেয়া, প্রতিটি বাসে অন্তত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহযোগী নিয়োগ, শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বাসে ওঠার পর যাত্রা শুরু করা, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের চাহিদা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং বাসচালক ও সহযোগীদের শারীরিক-মানসিক সুস্থতা ও পেশাগত দক্ষতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা। এছাড়া অনিবার্য কারণ ছাড়া হঠাৎ করে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ না করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতে আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর, ছাত্রপরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক, সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। তাদের গেট থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা রয়েছে, তাই বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা বলেছি। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুপুর ১২টার দিকে আলোচনায় বসব।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








