রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, দফতর, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ক্যাম্পাস, ভিসি, সিন্ডিকেট সভা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। নয়া দিগন্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নামে নতুন একটি স্বতন্ত্র দফতর চালু করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ দফতরের অধীনে পর্যাপ্ত শ্রমিক দৈনিক মজুরিতে কাজ করবেন। তাদের মূল দায়িত্ব হবে রাতের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার করে সকালে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৫৫০তম সভায় নতুন এ দফতর গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরো কার্যকর ও সুসংগঠিত করতে পৃথক এ দফতর গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত কাজও স্টুয়ার্ড সেকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে বড় পরিসরের ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরো দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র দফতর গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেট সূত্রে আরো জানা গেছে, নতুন দফতরের জন্য অর্গানোগ্রাম তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানো হবে। বাজেট ও জনবল কাঠামো অনুমোদনের পর দফতরটির কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। তবে বাজেট পাওয়ার আগেই দফতরটি গঠন করে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

নতুন এ দফতরের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হল, আবাসিক কোয়ার্টার, ৫৯টি বিভাগসহ পুরো ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। রাতের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিষ্কারের মাধ্যমে প্রতিদিন সকালে পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এমন পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এতো বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম একটি সেকশনের মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ কারণে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছন্নতা দফতর গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শ্রমিক থাকবে, যাদের কাজই হবে পুরো ক্যাম্পাসকে রাতের মধ্যে পরিষ্কার করে সকালে যেন মানুষ একটি পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস উপভোগ করতে পারে।’

নতুন দফতর গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ভিসি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য আলাদা দফতর, নির্দিষ্ট কাজের পরিধি ও পর্যাপ্ত জনবল থাকা জরুরি।’

দফতরটি কবে থেকে কার্যক্রম শুরু করবে জানতে চাইলে ভিসি বলেন, ‘সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর অর্গানোগ্রাম ইউজিসিতে পাঠানো হচ্ছে। বাজেট পাওয়ার আগেই দফতরটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’ 

আগামী এক মাসের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।