বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. ফেরদৌস রহমান। নয়া দিগন্ত

প্রশাসনিক দায়িত্বের ব্যস্ততার মধ্যেও গবেষণায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক ড. ফেরদৌস রহমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিশ্বের প্রথম সারির চিকিৎসা ও বিজ্ঞানবিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার-এর সমন্বিত জরিপে বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা তৃতীয়বারের মতো স্থান পেয়েছেন তিনি। 

Advertisement

আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকে ড. ফেরদৌস রহমানের বৈশ্বিক র‍্যাংক ২৮ হাজার ২৫০ এবং অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স সাবফিল্ডে তার র‍্যাংক ৫১৫। নবায়নযোগ্য শক্তি ও উন্নত সৌরশক্তি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার এ অর্জন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর মধ্যে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের দায়িত্বের পাশাপাশি বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের দায়িত্বও পালন করেছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।

প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রধান ও মূল কাজই হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও গবেষণা করা। আমি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পরও গবেষণার কাজ কখনো বন্ধ রাখিনি। নিরলসভাবে কাজ করে গেছি।’

তিনি বলেন, ‘শত ব্যস্ততা ও দাফতরিক কাজ শেষ করে আমি প্রতিদিন নিয়ম করে নিজের বিভাগে আসতাম। সেখানে আমার একটি নিজস্ব ল্যাব আছে, সেখানে সময় দিতাম। আমার একটি রিসার্চ গ্রুপ আছে। আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করতাম।’

নিজের গবেষণা দলের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করে ড. ফেরদৌস বলেন, ‘আনন্দের বিষয় হলো, আমার রিসার্চ গ্রুপেরই একজন ছাত্রের এবারসহ টানা দুইবার বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় নাম এনেছে। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আগামীতে বেরোবি থেকে এ সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে।’

বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ড. ফেরদৌস রহমান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বিশ্বের টপ দুই শতাংশ সায়েন্টিস্টের তালিকায় স্থান লাভ করেছি। এ অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের, গর্বের ও একই সাথে অনেক বড় দায়িত্বের।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এর পেছনে রয়েছে আমার পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর আন্তরিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা। তাদের সবার প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

ড. ফেরদৌস নবায়নযোগ্য শক্তি ও উন্নত সৌরশক্তি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন। টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবন তার গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কোনো স্বীকৃতিই গবেষণার শেষ নয়; বরং এটি আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। আমি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে চাই। বিশেষ করে তরুণ গবেষকদের সাথে কাজ করে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও দেশের জন্য কার্যকর প্রযুক্তি উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের গবেষণার জন্য আমরা সবাই মিলে আরো অনেক দূর এগিয়ে যাব—ইনশাআল্লাহ।’

প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গবেষণায় এমন ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তার এ অর্জন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরো দৃশ্যমান করেছে।