
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিট বণ্টন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
ছাত্রশিবিরের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—হলের ফাঁকা সিটগুলোতে দলীয় সুপারিশের পরিবর্তে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ, দ্রুত শাকসু নির্বাচন আয়োজনের কার্যকর উদ্যোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণকাজের মান ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত। এছাড়া ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে দ্রুতগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই সেবা এবং মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিতের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিবহন সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের হলে থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ফাঁকা সিটে নিয়মতান্ত্রিক সিট বণ্টন না করে দলীয় রেফারেন্সে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে। ফাঁকা সিটগুলোতে অবিলম্বে হল প্রশাসনের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভাগ অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বেও শাহপরাণ হলে ছাত্রদল নেতাদের সিট বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ আমরা দেখেছি। ছাত্রদল নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট নিয়ে নিজেদের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।’
ছাত্রশিবির কখনো প্রশাসনের কারো কাছে সিটের জন্য তদবির করেনি বলেও দাবি করেন তিনি। এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য ছাত্রদলের প্রতি আহ্বান জানান মুজাহিদুল ইসলাম।
শাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শাকসু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি ও ছাত্রদলের বাধার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’ জাতীয় নির্বাচনের পরও শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
মুজাহিদুল জানান, শাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সাক্ষাতের সময় চাইলেও তাদের সময় দেয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে ছাত্রদলকে সাক্ষাতের সময় দেয়া ও তাদের দলীয় কর্মসূচিতে প্রশাসনের উপস্থিতির অভিযোগও করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজকে ছাত্রদলের কর্মসূচির প্রচারমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে শাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত সব পক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত শাকসু বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে মুজাহিদুল জানান, চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সব প্রকল্প যথাযথ তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ের আহ্বান জানান। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তিনি।
ওয়াই-ফাই ও ইন্টারনেট সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে ওয়াই-ফাই সেবার মান ও নিরবচ্ছিন্নতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ করেন ছাত্রশিবিরের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন খাবারের মান বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’ খাবারে পোকামাকড় ও ময়লা পাওয়ার অভিযোগ করে তিনি মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবহনে শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।’
সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ ও প্রচার সম্পাদক রেজা-ই-রাব্বি সাফওয়ান উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








