ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, তদন্ত কমিটি
বামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও ডানে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের গেইট। নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একটি কোর্সের ৬০টির বেশি উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উত্তরপত্রগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেনের কাছে দেয়া হয়েছিল বলে দাবি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের। তবে প্রো-ভিসি তা অস্বীকার করেছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানা গেছে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই আদেশ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার একটি কোর্সের উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

কমিটিতে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট এবং ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের প্রফেসর ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দকে আহ্বায়ক করা হয়। ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: কামরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করা হয়।

গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পরই ওই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়।

এর আগে, বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ২ মে শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয়। ছয়টি কোর্সের মধ্যে পাঁচটির মূল্যায়ন নম্বর জমা পড়লেও ২১০৭ নম্বর কোর্সের উত্তরপত্র পাওয়া না যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি বিভাগ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক প্রফেসর ড. শাহাবুল আলম মূল্যায়ন শেষে উত্তরপত্রগুলো বিভাগে জমা দেন। পরে বিভাগের কর্মচারী জাবেদ আলী ৬০টির বেশি উত্তরপত্রের বান্ডিলটি বহিরাগত পরীক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেনের কাছে পৌঁছে দেন। এরপর থেকেই উত্তরপত্রগুলোর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি তাদের।

তবে প্রো-ভিসি প্রফেসর এমতাজ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, তিনি খাতা দেখার জন্য চেয়েছিলেন। কিন্তু তার কাছে খাতা আসেনি।

এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিভাগীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ বলেন, ‘প্রশাসনের চিঠি হাতে পেয়েছি। ইতোমধ্যেই আমরা তদন্তের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি। আশা করি আগামীকাল বা পরবর্তী শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।’