সিবগাতুল্লাহ সিবগা
সিলেট সরকারি কলেজে শিবিরের নবীনবরণে সিবগাতুল্লাহ সিবগা। নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেছেন, ‘সফলতার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি সময়ের সঠিক ব্যবহার। জ্ঞান, নৈতিকতা ও চরিত্রের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, সত্য-মিথ্যা ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বোঝার মতো চিন্তাশক্তিও অর্জন করতে হবে শিক্ষার্থীদের।’

Advertisement

সোমবার (৫ অক্টোবর) সিলেট সরকারি কলেজ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত একাদশ শ্রেণির (২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ) নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

জমকালো আয়োজনে কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত নবীনবরণে প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফাহমিদ আল মাহদির সভাপতিত্বে ও কলেজ সেক্রেটারি ইয়াজুর হোসেন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু, সাবেক কেন্দ্রীয় স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ‘প্রতিদিনের সময় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যের দিকে কতটা এগোনো যাচ্ছে—সফলতা ও ব্যর্থতার ব্যবধান অনেকাংশে এর ওপর নির্ভর করে। সময়কে যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে নিজের ভবিষ্যৎকেও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব শুধু জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতার নয়, চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়েরও। নানা মত, দর্শন, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারা তরুণদের জীবনবোধকে প্রভাবিত করছে। তাই জ্ঞানকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য নয়, চরিত্র গঠনের হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।’

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ধর্মের চর্চা মানুষের মধ্যে জবাবদিহিতার অনুভূতি তৈরি করে। এর মাধ্যমে সংযম, সততা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। আইন বা সামাজিক শাস্তির ভয় নয়, অন্তরের নৈতিক শক্তিই একজন মানুষকে সত্যিকার অর্থে সৎ করে তুলতে পারে।’

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পানি, সীমান্ত ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সিলেটের মানুষের কাছে নদী ও পানির প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানিপ্রবাহ, উজানে পানি প্রত্যাহার এবং বাঁধ বা জলকাঠামোর প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।’

শহীদ আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার শাহাদাত মতপ্রকাশ, ন্যায়বোধ ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে তরুণ সমাজের সামনে গভীরভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।’ শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিবেকবান ও ন্যায়নিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে শিবির সেক্রেটারি সিবগা বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশী বা বিদেশী যে-ই থাকুক, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, গবেষক, উদ্যোক্তা, প্রশাসক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তাই শিক্ষাজীবনের শুরুতেই লক্ষ্য নির্ধারণ, সময়ের সদ্ব্যবহার, জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির সমন্বিত পথ বেছে নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিবিরের দায়িত্বশীলবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।